গোবরডাঙার ৫ স্থাপত্যকে হেরিটেজ ঘোষণা - press card news

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Wednesday, 3 May 2023

গোবরডাঙার ৫ স্থাপত্যকে হেরিটেজ ঘোষণা


গোবরডাঙার ৫ স্থাপত্যকে হেরিটেজ ঘোষণা



নিজস্ব সংবাদদাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, ০৩ মে: দাবী ছিল দীর্ঘদিনের, অবশেষে এগুলোর ঐতিহাসিক গুরুত্ব বুঝলো হেরিটেজ কমিটি। গোবরডাঙার পাঁচটি স্থাপত্যকে হেরিটেজ ঘোষণা। আপাতত হেরিটেজ ঘোষণা করা হয়েছে গোবরডাঙা খাঁটুরা উচ্চ বিদ্যালয়, চন্ডীতলা জোড়া শিব মন্দির, গোবরডাঙা প্রসন্নময়ী কালী মন্দির, নহবত খানা ও সিংহ দুয়ার-কে। 


রাজ্যের অন্যতম প্রাচীন শহর হল উত্তর ২৪ পরগনার গোবরডাঙা। আর প্রাচীন শহরের ঐতিহ্য বহন করে চলেছে এলাকার বেশ কিছু স্মৃতি, সৌধ ও প্রাচীন নির্মাণ । তবে দশকের পর দশক ধরে একইভাবে পড়ে থাকায় অনেক ইতিহাস মুছে যেতে বসেছিল। সম্প্রতি গোবরডাঙা শহরের ইতিহাস বিজড়িত বেশ কয়েকটি বিষয়ের মধ্যে পাঁচটি বিষয়কে বেছে নিয়ে হেরিটেজ ঘোষণা করেছে হেরিটেজ কমিটি। 


গোবরডাঙ্গা শহরের অন্যতম প্রাচীন বিদ্যালয় হল গোবরডাঙা খাঁটুরা উচ্চ বিদ্যালয়। ১৮৫৬ সালে ওই বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয়, বর্তমানে তা ১৬৮ বছরে পড়ল। এই বিদ্যালয় তৈরিতে প্রধান ভূমিকায় ছিলেন সারদা প্রসন্ন মুখোপাধ্যায়, তাঁর সঙ্গে বিশেষ ভূমিকা নিয়েছিলেন এলাকারই বাসিন্দা বিনোদিনী দাসী। 


চন্ডীতলার জোড়া শিব মন্দির তৈরি করেছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সহযোগী প্রথম বিধবা বিবাহ যিনি করেছিলেন সেই শ্রীশচন্দ্র বিদ্যারত্ন। তাঁর মায়ের স্মৃতির উদ্দেশ্যে গোবরডাঙা পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে এই মন্দির ও তৎসংলগ্ন বাওড়ের ঘাট তৈরি করেছিলেন।জোড়া শীব মন্দিরের স্বাস্থ্য কিছুটা খারাপ হলে হাত বদল হওয়া, বর্তমান জমির মালিক তা কিছুটা সংস্কার করেছিলেন। তবে জরাজীর্ণ হয়ে ঘাটের যা অবস্থা, সেখান থেকে আর কেউ স্নান করতে নামতে পারে না। শ্রীশচন্দ্র বিদ্যারত্ন ছিলেন বর্তমানে ১৫২ বছরের পুরনো গোবরডাঙ্গা পুরসভার প্রথম মনোনীত চেয়ারম্যান। 


হেরিটেজ তকমা পেয়েছে গোবরডাঙা প্রসন্নময়ী কালী মন্দির। ১২২৯ বঙ্গাব্দে গোবরডাঙ্গার তৎকালীন জমিদার খেলারাম মুখোপাধ্যায় ও পরবর্তীতে তাঁর ছেলে কালীপ্রসন্ন মুখোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৈরি হয়েছিল গোবরডাঙ্গার প্রসন্নময়ী কালী মন্দির, যা বর্তমানে ২০১ বছরে পড়ল। প্রসন্নময়ী কালী মন্দিরে প্রবেশ পথের ঠিক ডানদিকে গা-ঘেঁষে একই সময় তৈরি হয়েছিল নওবত খানা। এক সময় দুরদুরান্ত থেকে বাদ্যকার ও শিল্পীরা এসে নওবত খানায় আশ্রয় নিতেন ও অনুষ্ঠানে গান-বাজনা করতেন এটিও স্থান পেয়েছে হেরিটেজ কমিটির তালিকায়। 


হেরিটেজ কমিটির তালিকায় রয়েছে গোবরডাঙার আরও একটি প্রাচীন নিদর্শন। ইংরেজ আমলে গোবরডাঙা জমিদার বাড়ির মূল ভবন যেখানে ছিল যেখানে তার ঠিক সামনেই রয়েছে এই সিংহ দুয়ার। তবে মূল ভবনটি সেখানে আর নেই। দুদিকে সিংহ দেওয়া স্তম্ভ এখনও সেই ইতিহাস বহন করে চলেছে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad