আরজি করের বিচার চেয়ে পথে পড়ুয়ারা, ঢাকায় মানববন্ধন
প্রেসকার্ড নিউজ ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ১৭ আগস্ট: আরজি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় তোলপাড় দেশ। ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (আইএমএ) শনিবার সারা দেশে কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে। এছাড়াও গত কয়েকদিনে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে চিকিৎসকদের বিক্ষোভ চলছে। এই ঘটনার ঢেউ আছড়ে পড়ল বাংলাদেশেও। কলকাতায় চিকিৎসকের ওপর নৃশংসতার প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে শুক্রবার ঢাকায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ করেন শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাস বিরোধী রাজু ভাস্কর্য পাদদেশে "আওয়াজ তোলো নারী" ব্যানারে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন হাজার হাজার পড়ুয়া। জাগরণ হিন্দির প্রতিবেদন অনুযায়ী, নৃবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী আনিয়া ফাহমিন বলেন, "সারা বিশ্বে নারীরা ধর্ষণের সম্মুখীন হয় এবং আমরা কলকাতার আরজি কর হাসপাতালের মামলায় ন্যায্য জবাবদিহির জন্য চলমান আন্দোলনকে সম্পূর্ণ সমর্থন করি।"
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, 'ধর্ষণের ঘটনার পরেও মেডিক্যালে ঢুকে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে প্রমাণ নষ্টের চেষ্টা হয়েছে। বাইরের কথা বাদ দিলেও আমাদের দেশে তনু-মুনিয়ার জন্য কোনও বিচার আমরা পাইনি। সাড়ে চার হাজার ধর্ষণের মামলার মধ্যে হাতেগোনা চার-পাঁচটা মামলার বিচার হয়েছে। আমাদের দাবী, স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটিয়ে আমরা যেখানে নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছি, সেখানে নারীদের জন্য বিচার, আইন ও তার প্রয়োগ চাই।'
কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকার প্রায় দশ বছর আগে খবরের শিরোনামে এসেছিল তনু ধর্ষণের মামলা। সেই ঘটনার কথা উল্লেখ করে নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আলেয়া তাহমিন বলেন, 'দেশের সেনাবাহিনীর এক চতুর্থাংশ সদস্য যেখানে থাকেন সেখানে কীভাবে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে? এর দায় সেনাবাহিনী যদি না নেয় সেটা বিস্ময়কর। তাছাড়া ধর্ষণের মামলার শুনানিতে ভুক্তভোগীকে এতটাই স্পর্শকাতর প্রশ্ন করে বিভ্রান্ত করা হয় যে, একটা সময়ে মীমাংসা করতে বাধ্য হন ভুক্তভোগী।'
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লামিশা জামাল বলেন, 'এদেশে ধর্ষণের ঘটনা এতটাই বেশি যে, একটি বলতে গেলে আরেকটির কথা মনে পড়ে যায়। সিলেট এমসি কলেজের ধর্ষণের ঘটনায় দেখলাম চারটি নিউজ চার রকম। এমন কেন হবে? আমাদের মেয়েদের বলা হয় সেল ডিফেন্স, ক্যারাটে শিখতে হবে। সরকারি বেসরকারি নানান সেমিনার করা হয় এই বিষয়ে। কিন্তু ছেলেদের নিয়ে কয়টা সেমিনার হয়, যেখানে মেয়েদের শরীরটাকে শুধু মানুষের শরীর ভাববে।' তিনি বলেন, 'মেয়ে হওয়ার আগে আমি মানুষ।'
উল্লেখ্য, এদিনের মানববন্ধন ও প্রতিবাদের সময় কলকাতা টু বাংলাদেশ, উই ওয়ান্ট জাস্টিস, জাস্টিস ফর আরজি কর ইত্যাদি লেখা প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।
No comments:
Post a Comment