এবছর অম্বুবাচী কবে-কখন শুরু? জানেন কী এই উৎসবের মাহাত্ম্য? - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Tuesday, June 9, 2026

এবছর অম্বুবাচী কবে-কখন শুরু? জানেন কী এই উৎসবের মাহাত্ম্য?

 


বিনোদন ডেস্ক, ০৯ জুন ২০২৬: সনাতন ধর্মের এক গুরুত্বপূর্ণ বাৎসরিক উৎসব অম্বুবাচী। এই উৎসবের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে শাস্ত্রের নানা কাহিনী। আমাদের দেশে একাধিক স্থানে অম্বুবাচী, ভিন্ন নামে পালিত হয়। লোকবিশ্বাস অনুসারে ,আষাঢ় মাসের ৭ তারিখে মৃগশিরা নক্ষত্রের তিনটি পদ শেষ হলে পৃথিবী বা ধরিত্রী মা রজঃস্বলা হন। এই সময়টিতে অম্বুবাচী পালন করা হয়।


শাস্ত্রে ও বেদে পৃথিবীকে মা বলা হয়ে থাকে। এমনকি পৌরাণিক যুগেও পৃথিবীকে ধরিত্রী মাতা বলে সম্বোধন করা হয়েছে। মনে করা হয়, আষাঢ় মাসে মৃগশিরা নক্ষত্রের চতুর্থ পদে ধরিত্রী ঋতুমতী হন। পূর্ণ বয়স্কা ঋতুমতী নারীরাই কেবল সন্তান ধারণে সক্ষম হোন। তাই অম্বুবাচীর পর ধরিত্রীও শস্য-শ্যামলা হয়ে ওঠেন। বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষায় অম্বুবাচী, অমাবতী বলেও পরিচিত। দেশের একাধিক স্থানে অম্বুবাচী উৎসব, রজঃউৎসব নামেও পালিত হয়। বাংলা প্রবাদে রয়েছে, ‘কিসের বার কিসের তিথি, আষাঢ়ের সাত তারিখ অম্বুবাচী।’ এদিন থেকেই হয় অম্বুবাচী শুরু। 


জ্যোতিষ শাস্ত্রে বলা হয়েছে, সূর্য যে বারের যে সময়ে মিথুন রাশিতে গমন করেন, তার পরবর্তী সেই বারের সেই কালে অম্বুবাচী হয়। অর্থাৎ, পৃথিবী এই সময়ে ঋতুমতী হন। অম্বুবাচী শুরুর পর তিন দিন চলে এই পর্ব। চলতি বছরে অম্বুবাচী শুরু হবে ২২ জুন অর্থাৎ ৭ আষাঢ় রাত ৭.৩৮ মিনিটে এবং ২৬ জুন প্রবৃত্তি অর্থাৎ ১১ আষাঢ় রাত ১০।৫৭ মিনিটে এর নিবৃত্তি অর্থাৎ সমাপ্তি হবে। 


সতীপিঠের অন্যতম অসমের কামাক্ষ্যা মন্দির। এই মন্দিরে সতীর গর্ভ এবং যোনি পড়েছিল। তন্ত্র সাধনার অন্যতম পীঠ এই মন্দির। প্রতি বছর অম্বুবাচীর তিন দিন কামাক্ষ্যা মন্দিরে বিশেষ উৎসব এবং মহামেলার আয়োজন হয়। দেশ-বিদেশ থেকে ভক্তেরা ভিড় জমান মন্দিরে। অভিনব সাজে এই সময় সেজে ওঠে এই মন্দির। কিন্তু ঢেকে দেওয়া দেবীকে। আর শুধু কামাক্ষ্যা নয়, অম্বুবাচী চলাকালীন বিভিন্ন মন্দির ও বাড়ির ঠাকুর ঘরের মাতৃ শক্তির প্রতিমা বা ছবি কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়।


অম্বুবাচীর আচার-রীতি

অম্বুবাচীর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বহু আচার-অনুষ্ঠান। এই তিনটি দিন সন্ন্যাসী এবং বিধবারা বিশেষ ভাবে পালন করেন। কোনও শুভ কাজও এই কয়েকদিন নিষিদ্ধ থাকে। শুধু তাই নয়, অম্বুবাচী চলাকালীন কৃষিকাজ বন্ধ রাখা হয়। তিনদিন পর অম্বুবাচী শেষে ফের কোনও মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান ও চাষাবাদ শুরু হয়। এই সময় যাত্রাও নিষেধ।


প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, ঋতুকালে মেয়েরা অশুচি থাকেন। একই ভাবে মনে করা হয় পৃথিবীও এই সময়কালে অশুচি থাকেন। সেজন্যেই এই তিন দিন ব্রহ্মচারী, সাধু, সন্ন্যাসী, যোগীপুরুষ এবং বিধবারা 'অশুচি' পৃথিবীর ওপর আগুনের রান্না করে কিছু খান না। বিভিন্ন ফলমূল খেয়ে এই তিন দিন কাটাতে হয়। এখনও বিভিন্ন পরিবারের বয়স্ক বিধবারা তিন দিন ধরে অম্বুবাচী উপলক্ষ্যে ব্রত পালন করেন। যুগ যুগ ধরে এই রীতি চলে আসছে। 




বি.দ্র: বিশ্বাস ও মান্যতার ওপর ভিত্তি করে প্রতিবেদন।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad