ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ০৯ জুন ২০২৬: পাকিস্তান-অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরে (পিওকে) ৯ জুনের ডাকা হরতাল ও বিক্ষোভ সহিংস রূপ নিয়েছে। অঞ্চলটির বিভিন্ন অংশে বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। জম্মু-কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি) কর্তৃক আয়োজিত ‘লং মার্চ টু মুজাফফারাবাদ’ চলাকালে বিপুল সংখ্যক মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন এবং পাকিস্তান সরকার ও সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে স্লোগান দেন।
রাওয়ালকোটে বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে আরও একটি উত্তপ্ত ও সহিংস সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। জানা গেছে, পাকিস্তান সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির এবং পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া হয়। বিক্ষোভকারীরা ‘আসিম মুনির একজন সন্ত্রাসী’ র মতো স্লোগান দেয়। ‘আইএসআই-এর বিরুদ্ধেও স্লোগান ওঠে। বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
এরই মাঝে, কাশ্মীর আওয়ামী অ্যাকশন কমিটির নেতা খাজা মেহরানের একটি বিবৃতিও ছড়িয়ে পড়েছে। সমর্থকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, "এই দিনটিকে লিখে রাখুন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বলুন যে আমরা রুখে দাঁড়িয়েছিলাম এবং তাদের আধাসামরিক বাহিনীর কাছে মাথা নত করিনি কিংবা তাদের ভয়ও পাইনি।"
রাওয়ালকোটের বেশ কয়েকটি মসজিদ থেকেও জনগণকে বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। স্থানীয় ঘোষণায় বলা হয় যে, বিদেশি শক্তি জম্মু-কাশ্মীরের মাটিতে আক্রমণ করেছে এবং সকল কাশ্মীরিকে তাঁদের জাতীয় গর্ব প্রমাণ করতে এই লং মার্চে অংশ নেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
এদিকে, জেএএসি-র সিনিয়র নেতা শওকত নওয়াজ মীর বলেন যে, বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের কণ্ঠস্বর দমন করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, "আমাদের যুবকদের হত্যা করা হচ্ছে।" স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব, অর্থনৈতিক বিষয় এবং প্রশাসনিক অধিকারের দাবীতে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) চলমান আন্দোলন তীব্রতর হয়েছে। অঞ্চলটির পরিস্থিতি উত্তপ্ত রয়েছে এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

No comments:
Post a Comment