উত্তর ২৪ পরগনা: 'অভিযোগ তো যে কেউ করতে পারে, প্রমাণ করতে পারলে আমাকে ফাঁসিকাঠে তুলে দিক', এমনই দাবী করলেন ধৃত তৃণমূল নেতা সব্যসাচী দত্ত। তোলাবাজির অভিযোগে ধৃত তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ককে মঙ্গলবার আদালতে তোলার আগে মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ। এদিন সকালে কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে তাঁকে হাসপাতালে আনা হয়। সেখানে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। সেই সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একথা বলেন সব্যসাচী দত্ত।
তৃণমূল নেতা বলেন, 'অভিযোগ তো যে কেউ করতে পারে। এক কেন ১০০ কোটিও বলতে পারে। সে এক টাকাও দিয়েছে যদি প্রমাণ করাতে পারে আমাকে ফাঁসিকাঠে তুলে দিক।' তিনি বলেন, 'পুরোটাই মিথ্যা, সাজানো।'
তাঁর দাবী, অভিযোগকারী নিজেই সেই সময় গ্রেফতার হয়েছিলেন। সব্যসাচী বলেন, '২০১৮ সালে বিধাননগর উত্তর থানায় তিনি নিজেই গ্ৰেফতার ছিলেন এবং বিভিন্ন সময় প্রতারণার মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন। সেই সময় তাঁর পরিবারের লোক এবং এক ব্যবসায়ী এসেছিলেন আমার কাছে (২০১৮ সালের ঘটনায়) জামিন করিয়ে দেওয়ার জন্য।' 'এটা প্রতিহিংসার রাজনীতি', বলেই দাবী করেন তৃণমূল নেতা।
উল্লেখ্য, সোমবার রাতে নিউটাউনে তাঁর ফ্ল্যাট থেকে প্রথমে তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের পর গভীর রাতে তাঁকে পুলিশ গ্রেফতার করে। ২০১৮ সালে এক ব্যবসায়ীর থেকে ১ কোটিরও বেশি টাকার তোলাবাজির অভিযোগ রয়েছে তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়কের বিরুদ্ধে।
পুলিশ সূত্রে খবর, রাজারহাট-নিউটাউনের প্রাক্তন বিধায়ক তথা ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার সব্যসাচী দত্তর বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর দায়ের করেন একজন ব্যবসায়ী। তিনি সল্টলেকের বাসিন্দা। তিনিই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে তোলাবাজি, খুনের হুমকি, মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন। ব্যবসায়ীর অভিযোগ, তাঁর কাছ থেকে ১ কোটি ৫ লক্ষ টাকা তোলা চেয়েছিলেন তৃণমূল নেতা এবং তিনি তা দিয়েও দেন।
অভিযোগ পাওয়ার পরেই তদন্তে নামে বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ। সোমবার রাতেই নিউটাউনে সব্যসাচীর ফ্ল্যাটে হানা দেন তদন্তকারীরা। প্রাক্তন বিধায়ক তখন সেখানেই ছিলেন। নিজের ফ্ল্যাট থেকেই সব্যসাচীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। তার পরে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গভীর রাতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। মঙ্গলবার তাঁকে আদালতে পেশ করা হবে। তার আগে মেডিক্যাল করাতে নিয়ে যাওয়া হয় ধৃত তৃণমূল নেতাকে। সেখানেই তিনি দাবী করলেন, এই অভিযোগ মিথ্যা।
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে ফিরেছিলেন সব্যসাচী দত্ত। বর্তমানে রাজ্যে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। বাংলার মসনদে বসেছে বিজেপি। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই কড়া পদক্ষেপের পথে হেঁটেছে। দিকে দিকে তৃণমূল নেতা, কাউন্সিলর, প্রাক্তন মন্ত্রী সব গ্রেফতার হচ্ছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, তোলাবাজি, ভোট পরবর্তী হিংসা সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এই আবহেই নিজের গ্ৰেফতারি নিয়ে 'প্রতিহিংসার রাজনীতি'র অভিযোগ তুললেন সব্যসাচী দত্ত।
এদিকে সব্যসাচী দত্তের গ্ৰেফতার ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে কৌতূহল ও জল্পনা তৈরি হয়েছে। যদিও মামলার তদন্তের স্বার্থে পুলিশ এখনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। আদালতে পেশের পর এই মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া কোন দিকে এগোয়, সেদিকেই নজর বিভিন্ন মহলের।

No comments:
Post a Comment