নিজস্ব সংবাদদাতা, ঝাড়গ্রাম: পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির বন্ধ ঘর থেকে উদ্ধার হল ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা কন্ডোমের প্যাকেট। ঘঠনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে ঝাড়গ্রাম জেলার বিনপুর-২ ব্লকে সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিকের কার্যালয় চত্বরের। 'অন্নপূর্ণা যোজনা'-র ফর্ম তুলতে এসেছিলেন মানুষজন। তীব্র দাবদাহ থেকে বাঁচতে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির বন্ধ ঘর খোলাতেই চক্ষু চড়কগাছ। মেঝেতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে একাধিক কন্ডোমের প্যাকেট! সোমবার দুপুরে ঘটনা ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের ফর্ম পূরণের জন্য এদিন বহু সাধারণ মানুষ ব্লক চত্বরে আসেন। প্রচণ্ড গরমে হাঁসফাঁস ও ভিড়ের কারণে সাধারণ মানুষ বেজায় সঙ্কটে পড়েন। এমন পরিস্থিতি দেখে বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা ব্লক প্রশাসনের কাছে আবেদন জানান, তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির বন্ধ ঘরটি যেন সাধারণ মানুষের বসার জন্য সাময়িকভাবে খুলে দেওয়া হয়। সেই আবেদনের ভিত্তিতেই ঘরটি খোলার অনুমতি মেলে।
এরপর ঘরটি খোলা হলে চক্ষু চড়কগাছ উপস্থিত সকলের। দেখা যায়, ঘরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে একাধিক কন্ডোমের প্যাকেট।সন্দেহ গাঢ় হতেই খোলা হয় পঞ্চায়েত সমিতির আলমারির লকার, আর সেখানেও মেলে কন্ডোমের প্যাকেট! পঞ্চায়েত সমিতির লকারে এই ধরণের আপত্তিজনক জিনিস উদ্ধারের ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়ায়। ঘটনার খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়তেই ব্লক চত্বরে উৎসুক মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। সরকারি দফতরের একটি গুরুত্বপূর্ণ কক্ষে কীভাবে এই ধরণের সামগ্রী এল, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবী, বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা সামনে আনা হোক।
যদিও এদিন বিনপুর-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বিকাশ সিং সর্দার অফিসে উপস্থিত ছিলেন না। স্থানীয় সূত্রে খবর, গত কয়েকদিন ধরে বিনপুর ২ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বিকাশ সিং সর্দার অফিসে আসেননি। সভাপতি অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এবং কারা তাঁর বন্ধ ঘরের ভেতর ও লকারে এই বিপুল পরিমাণ কন্ডোমের প্যাকেট রাখল, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি জানান, তিনি কিছু জানেন না। এদিকে বিজেপি কর্মীরা বিডিওর কাছে অভিযোগ জানান। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।
ঘটনার প্রকৃত সত্যতা এবং কীভাবে ওই সামগ্রীগুলি অফিস কক্ষে এল, তা খতিয়ে দেখার দাবী তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিষয়টি নিয়ে কী পদক্ষেপ করা হয়, সেদিকেই এখন নজর সকলের।

No comments:
Post a Comment