ধনখড়কে উপরাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থীর সিদ্ধান্ত, মমতার সিলমোহর পড়েছিল দার্জিলিংয়েই! - press card news

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Sunday, 17 July 2022

ধনখড়কে উপরাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থীর সিদ্ধান্ত, মমতার সিলমোহর পড়েছিল দার্জিলিংয়েই!


পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে ক্রমাগত দ্বন্দ্ব চলছিল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নির্বাচনের সময় সহিংসতা এবং দুর্নীতির ইস্যুতে রাজ্যপাল ধনখড় ক্রমাগত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে চলেছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বনাম রাজ্যপালের দ্বন্দ্ব সংবাদ শিরোনামে। এমনকি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি দিয়ে ধনখড়কে অপসারণের দাবীও জানিয়ে আসছিলেন, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এই দাবী ক্রমাগত প্রত্যাখ্যান করে আসছে। 


এবারে এই বিতর্কের মধ্যেই উপরাষ্ট্রপতি পদের জন্য জগদীপ ধনখড়কে এনডিএ প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। কিছু রাজনৈতিক বিশ্লেষক এটিকে রাজ্যপাল ধনখড়ের কাছ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুক্তি হিসাবে বিবেচনা করছেন, অন্যদিকে কেউ কেউ এটিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মধ্যে একটি সম্পর্ক বলে অভিহিত করছেন।  


তিন দিন আগে দার্জিলিং সফরের সময় রাজভবনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্যপাল ধনখড় এবং আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার মধ্যে একটি বৈঠকে এটি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল এবং তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমোর সম্মতির পরেই বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।


সূত্রের খবর, ওই বৈঠকে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের কথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানানো হয়েছিল। তার পরেই ধনখড় দিল্লী গিয়ে শুক্রবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দেখা করেন। সেই বৈঠকের পরেই বিজেপি ধনখড়কে উপরাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা করে।


রাজ্যপাল ধনখড় ক্রমাগত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধিতা করছিলেন। তার অপসারণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন মমতা। এমতাবস্থায় রাজ্যপাল ধনখড়কে উপরাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এক তীর দিয়ে বহু নিশানা করেন। বাংলা থেকে ধনখড় অপসারণের দাবীও স্বীকার করে নেয় এবং সেই সিদ্ধান্তকে যৌক্তিক স্থানও দেয়। 


প্রবীণ রাজনৈতিক বিশ্লেষক পার্থ মুখোপাধ্যায়ের কথায়, সাম্প্রতিক সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একপ্রকার ব্যাকফুটে দেখা যাচ্ছে। তাঁর পক্ষে সাম্প্রতিক রায়, তা নিশ্চিত করছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথমে যশবন্ত সিনহাকে রাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থী করার উদ্যোগ, তারপর দ্রৌপদী মুর্মুর বিষয়ে নরম অবস্থান নেওয়া এবং এরপরে যশবন্ত সিনহার নির্বাচনী প্রচারে না আসা, এসবেরই ইঙ্গিত দেয়। এভাবে সাপও মরল, আর লাঠিও ভাঙল না।


এদিকে, তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২১ জুলাই সভার পর বিকেল ৪টায় লোকসভা ও রাজ্যসভার সাংসদের বৈঠক ডেকেছেন। এই বৈঠকে উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে এই বৈঠক হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কথায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ধনখড়ের প্রার্থী হওয়াকে সমর্থন করবেন, নাকি বিরোধিতা করবেন সেটাই দেখার বিষয়।  


এটা সম্ভব যে, ধনখড় যেহেতু রাজ্যের রাজ্যপাল, এমন পরিস্থিতিতে বৃহত্তর রাজনৈতিক স্বার্থে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ধনখড়ের প্রার্থীতাকে সমর্থন করতে পারেন। ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী এবং ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা প্রধান হেমন্ত সোরেন যেমন দ্রৌপদী মুর্মুর ক্ষেত্রে করেন বা তার দল উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময় ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকেন, এমনও হতে পারে। কারণ ধনখড় যেভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিরোধিতা করছিলেন, সেক্ষেত্রে দলের পক্ষে পুরোপুরি সমর্থন দেওয়া সম্ভবত সম্ভব হবে না।  


তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ সৌগত রায় বলছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধিতা করার জন্য ধনখড় পুরষ্কার পেয়েছেন এবং বাংলা ধনখড় থেকে মুক্তি পেয়েছে। তবে আগামীকালের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হবে, নির্বাচনের সময় করণীয় কী হবে, আর তা ঠিক করবে দল।  


অন্যদিকে, সিপিআই(এম) নেতা সুজন চক্রবর্তী এই প্রসঙ্গে বলেন, 'তিনি ধনখড়কে উপরাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী দেখে বিস্মিত নন, কারণ সবাই দার্জিলিংয়ের বৈঠক দেখেছে এবং মানুষের পক্ষে বোঝা খুব একটা কঠিন নয়৷'

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad