নতুন বিপদ কালা জ্বর! রাজ্যের ১১ জেলায় প্রকোপ - press card news

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Saturday, 16 July 2022

নতুন বিপদ কালা জ্বর! রাজ্যের ১১ জেলায় প্রকোপ


রাজ্যে আরও একবার মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে করোনা। এরই মধ্যে নতুন করে বিপদ সৃষ্টি করছে কালাজ্বর। গত কয়েকদিন ধরে রাজ্যের ১১টি জেলায় কালা জ্বরের প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে। কালাজ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে অনেক মানুষ। অন্যদিকে প্রতিদিন করোনার ক্রমবর্ধমান গতি মানুষকে আতঙ্কিত করছে। গত ২৪ ঘন্টায় করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়িয়েছে এবং ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে, কেন্দ্রীয় সরকারের ঘোষণার পর, কলকাতা সহ রাজ্যের সমস্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্র ১৮ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তিদের করোনা ভ্যাকসিনের বুস্টার ডোজ দেওয়া শুরু করেছে। রাজ্য সরকার সতর্কতা ও সচেতনতার পাশাপাশি করোনার টিকা দেওয়ার ওপরেও জোর দিচ্ছে।


রাজ্য প্রসাশনের নজরদারির ফলাফলের উদ্ধৃতি দিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন আধিকারিক বলেছেন, বাংলার এগারোটি জেলায় গত কয়েক সপ্তাহে অন্তত ৬৫ জন কালাজ্বরের শিকার হয়েছেন। তিনি বলেন, যে যে জেলাগুলিতে সর্বাধিক সংখ্যক আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে সেগুলি হল দার্জিলিং, কালিম্পং, মালদা, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর।


তিনি বলেন, “কালাজ্বর কার্যত পশ্চিমবঙ্গ থেকে নির্মূল করা হয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক নজরদারিতে, ১১ টি জেলায় ৬৫ জন আক্রান্ত সনাক্ত করা হয়েছে। রোগ সনাক্ত হওয়ায় রাজ্য এই রোগের বিস্তারকে মোকাবেলা করতে সক্ষম হবে।" বীরভূম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, মুর্শিদাবাদ জেলাগুলিতেও কিছু ক্ষেত্রে কালা জ্বরের রিপোর্ট করা হয়েছে, যা মূলত পরজীবী 'লেশম্যানিয়া ডোনোভানি' দ্বারা সংক্রামিত বালিমাছির কামড়ে ছড়ায়। 


আধিকারিকদের মতে, কলকাতায় এখনও পর্যন্ত কোনও আক্রান্তের খবর মেলেনি। আধিকারিক বলেন, “এই রোগটি বেশিরভাগ এমন লোকেদের হয়েছে, যারা বিহার, ঝাড়খণ্ড এবং উত্তর প্রদেশে অনেক সময় কাটিয়েছেন। বাংলাদেশের কিছু মানুষের মধ্যেও কালা জ্বরের লক্ষণ দেখা যায়। এ জন্য মনিটরিং প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।"


রাজ্য সচিবালয়ের একজন শীর্ষ আমলা বলেছেন যে, সরকার এই রোগে আক্রান্ত সকলকে "বিনামূল্যে" চিকিত্সা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি বলেন, “যদি কোনও প্রাইভেট ল্যাবরেটরি বা হাসপাতালে সংক্রমণ ধরা পড়ে তবে চিকিৎসকের উচিৎ অবিলম্বে বিষয়টি জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিকের নজরে আনা। খাবার সহ চিকিৎসার সম্পূর্ণ খরচ রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর বহন করবে। জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক পুরো প্রক্রিয়াটি তদারকি করবেন।” রোগীদের পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad