সুকান্তদের বৈঠকে গড়হাজির কেন? সাফ জবাব দিলীপের - press card news

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Tuesday, 23 August 2022

সুকান্তদের বৈঠকে গড়হাজির কেন? সাফ জবাব দিলীপের


বদ্ধ ঘরে বৈঠকে সুকান্তরা, আর সেখানেই গড়হাজির দিলীপ। তাহলে কি ফের মতপার্থক্য ইস্যু! সোজাসাপ্টা জবাব দিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ। মঙ্গলবার নিউটাউনে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। সাংগঠনিক বৈঠকে অনুপস্থিত থাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "যে বৈঠকে থাকার দরকার সে বৈঠকে আমি ছিলাম। ওই বৈঠকে আমার থাকার কথা ছিল না।" 


সুকান্ত মজুমদার বলেছেন, দরজা বন্ধ হয়ে গেছে তাই উনি ঢুকতে পারেননি, এ প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, "উনার হয়তো জানা ছিল না আমাকে একটা কোর কমিটির বৈঠকে ডাকা হয়েছিল। সন্ধ্যা সাতটায় বৈঠক ছিল, আমি একটু আগে গিয়েছিলাম। দূর থেকে সমস্ত নেতারা এসেছিল আর সেই বৈঠকে আমি অংশগ্রহণ করেছিলাম। সর্বোচ্চ নেতৃত্বের সঙ্গে আমার বৈঠক ছিল।" নতুন কমিটিতে দিলীপ ঘোষ গুরুত্ব হারাচ্ছে? দিলীপের জবাব, 'কোথাকার নতুন কমিটি?'


প্রসঙ্গত, সোমবার রাজ্য বিজেপির কোর কমিটির বৈঠক দলের হেস্টিংস অফিসে অনুষ্ঠিত হয়, কিন্তু একই ভবনে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও, দিলীপ ঘোষ কোর কমিটির বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন বিজেপির আইটি শাখার প্রধান ও পশ্চিমবঙ্গের সহ-তত্ত্বাবধায়ক অমিত মালব্য, সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সতীশ ধোন্ডা, রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার এবং অন্যান্য নেতারা। বৈঠকে দিলীপ ঘোষকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তিনি বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন। আমন্ত্রণ পেয়েও কেন বৈঠকে আসেননি দিলীপ ঘোষ? এ নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।


উল্লেখ্য, বিজেপি নেতারা ১৩ সেপ্টেম্বরের নবান্ন অভিযান সংক্রান্ত প্রস্তুতি নিতে একটি বৈঠক ডেকেছিলেন, কিন্তু বিজেপি ভবনে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও, দিলীপ ঘোষ বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন, যদিও তিনি সাংবাদিকদের সাথে এই বিষয়ে কথা বলেছেন।


পরে এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুকান্ত মজুমদার বলেন, আজকের বৈঠকের কথা জানিয়ে দিলীপ ঘোষকে চিঠি দেওয়া হলেও তিনি আজকের বৈঠকে অংশ নেননি। বিজেপির রাজ্য সভাপতি বলেন, হয়তো কোনও কাজে ব্যস্ত ছিলেন, তাই আসেননি। অথবা হয়তো তিনি জানতেনই না যে দরজা বদ্ধ ছিল।" যদিও, সুকান্ত মজুমদার ইডি এবং সিবিআই সম্পর্কে রবিবার করা দিলীপ ঘোষের মন্তব্যের বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি।


সূত্র জানিয়েছে যে, দিলীপ ঘোষ বিজেপির আইটি শাখার প্রধান এবং পশ্চিমবঙ্গের সহ-তত্ত্বাবধায়ক অমিত মালব্যর সাথে একটি ব্যক্তিগত বৈঠক করেছিলেন, তবে এখন প্রশ্ন হল, 'রাজ্য স্তরে অনুষ্ঠিত সাংগঠনিক সভা ছিল বলেই কি দিলীপ ঘোষ অনুপস্থিত ছিলেন? নাকি তাকে সেই বৈঠকে যোগ দেওয়ার অনুমতিই দেওয়া হয়নি?' প্রশ্ন রাজনৈতিক মহলের একাংশের। 


প্রসঙ্গত, সারাদিনের সভা শেষে এদিন একের পর এক রাজ্য নেতারা চলে যাওয়ার পরও দীর্ঘক্ষণ পার্টি অফিসে ছিলেন দিলীপ ঘোষ। যাওয়ার সময় তাকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনিও প্রশ্নটি এড়িয়ে যান। দিলীপ ঘোষ একদিন আগেই অভিযোগ করেছিলেন যে, সিবিআই কিছু তৃণমূল নেতাদের সাথে "সেটিং" করেছে। 'বিতর্কিত' মন্তব্যের ২৪ ঘন্টার মধ্যে, বঙ্গীয় বিজেপি মনে হচ্ছে দিলীপ ঘোষ থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিয়েছে, বলেই মত একাংশের। 


উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বও দিলীপ ঘোষের বক্তব্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতির কাছে রিপোর্ট চেয়েছিল।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad