পুজো থেকে অনেক দূরে বাংলার আদি বাসিন্দারা - press card news

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Tuesday, 6 September 2022

পুজো থেকে অনেক দূরে বাংলার আদি বাসিন্দারা


অপেক্ষা আর কয়েকটা দিনের, এরপরেই দুর্গোৎসবে মেতে উঠবেন সকলেই। হাসি-আনন্দ, দিনভর আড্ডা, জমিয়ে খাওয়া-দাওয়া; এক কথায় অনাবিল আনন্দ। শহরের পাশাপাশি গ্ৰাম-বাংলাতেও এই চেনা চিত্রের দেখা মিলবে। কিন্তু মুদ্রার যেমন দুটো পিঠ, এক্ষেত্রেও কিন্তু তার ব্যতিক্রম নেই। কী সেই মুদ্রার অপর পিঠ! 


পুজো ঘিরে যখন এক শ্রেণির মানুষ আনন্দ উৎসবে মেতে ওঠেন, ঠিক তখনই ঘরের কোণে নিজেদের আবদ্ধ করে রাখেন একাংশ। বলছি, গ্ৰাম বাংলায় বসবাসকারী আদিবাসী সম্প্রদায়ের অধিকাংশ মানুষজনের কথা। 


পুজো মানেই তাদের কাছে এক রাশ আনন্দ নয়। বছরের অন্যান্য দিনের ন্যায় এই চারটে দিনও তাদের সংগ্ৰামে ভাটা পড়ে না। এর জন্য অবশ্য দায়ী তাদের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি। একে তো প্রত্যন্ত অঞ্চলে তাদের বসবাস, কোথাও কোথাও তো যোগাযোগের মাধ্যমটুকুও নেই। বেহাল রাস্তা-ঘাট, নেই শিক্ষা-স্বাস্থ্যের সুব্যবস্থা। প্রতি পদে পদে যাদের লড়াই করে বাঁচতে হয়, পুজোর দিনে আনন্দ, তাদের কাছে বিলাসিতা ছাড়া আর‌ কিছুই নয়। 


এছাড়াও তাদের অনেকেই খ্রীষ্টান ধর্মাবলম্বী। যদিও এক সময় তারা হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, তবে পরবর্তীতে ধর্ম পরিবর্তন করে নেন তারা। কিন্তু কেন এই পদক্ষেপ? এর পেছনেও অনেকাংশে দায়ী এই অর্থনীতিই। তাদের কথায়, পুরোহিতদের চাহিদা অনেক। পুজোর সমস্ত নিয়ম পালন করতে গিয়ে পকেটে টান পড়ে; যেমন বলি প্রথা, যাগযজ্ঞ ইত্যাদি। 


তাহলে পুজোর দিনগুলোতে তারা কি করেন? প্রচলিত রয়েছে, এই প্রাচীন আদিবাসী সম্প্রদায়ের কেউ কেউ এই সময় নিজেদের ঘর বন্দি করে রাখেন, কেউ বা শোকে মেতে থাকেন, কান্নাকাটি করেন। যেমন অসুর সম্প্রদায়ের মানুষেরা। তবে, একথা পুরোটা সত্যি নয়। 


হ্যাঁ, দুর্গা পুজোয় তারা অংশ নেন না, একথা ঠিক। তবে ঘর বন্দি থেকে শোকে ডুবেও যান না। বাকি দিনগুলোর ন্যায় পুজোর কয়েকটা দিনও তারা স্বাভাবিক জীবনযাপন করেন। এছাড়াও, নতুন প্রজন্ম-কচিকাঁচারা পুজোতে অংশ নেওয়া, নতুন জামা-কাপড় পড়া এসব করে থাকে। 


তবে সময় বদলাচ্ছে, যদিও এই আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষের সুদিন কবে আসবে- এই উত্তর হয়তো আমাদের কাছে নেই।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad