লটারিতে জেতা টাকার লোভ! ছেলের হাতে খুন মা - press card news

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Saturday, 17 December 2022

লটারিতে জেতা টাকার লোভ! ছেলের হাতে খুন মা



লটারির টিকিট থেকে ৭৫ লাখ টাকা জিতেছিলেন মা।  কিন্তু টাকার লোভে ছেলে ও তার প্রেমিকা মিলে খুন করলেন তাকে।  ঘটনাটি নদীয়া জেলার নবদ্বীপের। নবদ্বীপ থানার পুলিশ অফিসার সুপ্রিয়া সাহা খুনের ঘটনায় এক মহিলা সহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন কুণাল হালদার, নয়ন মালাকার ও শুক্লা বিশ্বাস।  পুলিশ জানিয়েছে, শুক্লা পুরো পরিকল্পনার মূল পরিকল্পনাকারী।


 পুলিশ জানিয়েছে, সুপ্রিয়াকে খুন করার পর গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কুনাল একবার নিজের সিম থেকে ফোন করেছিল।  সেই সূত্র ধরেই পুলিশ সাফল্য পায়।


 

 শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রথমে ফাঁদ পেতে কুণাল হালদারকে গ্রেফতার করে পুলিশ।  তার জিজ্ঞাসাবাদে আরও দুইজনের নাম জানা গেছে।  তাকেও গ্রেফতার করা হয়।  এর আগে সুপ্রিয়ার ছেলে জয় সাহাকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ।  এরপর তিনি জামিন পান।  এদিকে বেশ কয়েক মাস আটকে থাকার পর হাইকোর্ট থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন নিয়ে গত বৃহস্পতিবার রেহাই পান জয়।  পুলিশের কাছে তিনি দাবী করেন, বাড়িতে ঢুকে তার মায়ের দেহ কম্বলে মোড়ানো দেখতে পান, তবে তার স্ত্রী সবিতা সাহার অভিযোগের ভিত্তিতে ওই রাতেই জয়কে গ্রেপ্তার করা হয়।  সে এখন পুলিশ হেফাজতে আছে।



পুলিশ জানায়, শুক্লার সঙ্গে জয়ের সম্পর্ক দুই বছরের।  মাকে টাকার জন্য চাপ দিতে থাকে জয়।  শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়ে, তিনি শুক্লাকে কোনওভাবে সুপ্রিয়ার কাছ থেকে টাকা আদায় করতে বলেন।  এরপর সুপ্রিয়াকে খুনের পরিকল্পনা করেন শুক্লা।  জেরা করার সময় কুণাল পুলিশকে বলেছিল যে তিন মাস আগে শুক্লা তাকে বলেছিল যে জয়ের বাড়ির আলমারিতে ৫০ লক্ষ টাকা এবং সোনার অলঙ্কার রয়েছে।  জয়ের মাকে খুনের পর টাকা আনলে তাকে দশ লাখ টাকা দেওয়া হবে।  ১৪ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে বন্ধু নয়ন মালাকারকে নিয়ে সুপ্রিয়ার বাড়িতে যান কুনাল।  পূর্ব পরিচিত হওয়ায় সে সহজেই ভেতরে ঢুকে শ্বাসরোধ করে খুন করতে পারত, কিন্তু ঘরের আলমারি খুলে সেখানে টাকা-পয়সা বা গয়না না পেয়ে ঘরে তালা ঝুলিয়ে দেয়।


 

 সে সুপ্রিয়ার ফোন সঙ্গে নিয়ে যায়।  কুনাল একবার সেই ফোনে তার সিম ভরেছিল।  ঘটনার একদিন পর ১৬ সেপ্টেম্বর কুনাল নবদ্বীপ ছেড়ে চলে যান।  সুপ্রিয়ার আইনজীবী বিকাশ মণ্ডল শুরু থেকেই বলে আসছেন যে সম্পত্তি বা টাকা তার মক্কেল সুপ্রিয়ার মৃত্যুর অন্যতম কারণ।  নবদ্বীপ থানার আইসি অভিজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “ধৃতরা সবাই স্বীকার করেছে যে তারা এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল।” তদন্তের জন্য ধৃতদের হেফাজতে নেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন করা হবে।  শুক্রবার জয় সাহাকে আদালতে পেশ করা হলে বিচারক ছয় দিনের পুলিশি হেফাজত মঞ্জুর করেন।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad