ক্ষমতাসীন দলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বিরোধ। পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে উত্তপ্ত উত্তর দিনাজপুর। সেই ঝগড়ার মধ্যেই একজন সিভিক ভলান্টিয়ার মর্মান্তিকভাবে মারা যান। রাজনৈতিক বিরোধের জেরে চলতে থাকে গুলি-বোমা। বোমার আঘাতে ওই সিভিক ভলান্টিয়ারের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার গভীর রাতে উত্তর দিনাজপুর জেলার ইসলামপুর থানা এলাকার দক্ষিণ মাটিকুণ্ড এলাকায়।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ক্ষমতা দখলের জন্য ক্ষমতাসীন দলের দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ হয়। দুই গ্রুপই একে অপরকে লক্ষ্য করে গুলি ও বোমা নিক্ষেপের অভিযোগ এনেছে। দুঃখজনকভাবে, সংঘর্ষের মধ্যে একজন সিভিক ভলান্টিয়ার মারা যান। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর দিনাজপুর জেলার ইসলামপুর থানার দক্ষিণ মাটিকুণ্ড এলাকায়। জানা গেছে, নিহত সিভিক ভলান্টিয়ারের নাম সাকিব আক্তার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শাহনওয়াজ আলম ও মেহবুব আলমের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিরোধ চলে আসছিল। মেহবুব আলম মাটিকুন্ড ১নং গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দাদের দাবী, শাহনওয়াজ আলম বিধায়ক আব্দুল করিম চৌধুরীর অনুগামী। অন্যদিকে মেহবুব আলম তৃণমূল কানাইলাল আগরওয়ালের অনুসারী।দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ চলছিল। বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে আবারও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।ধর্মাচারের সময় প্রধান মেহবুব আলম ও তার লোকজন ওই রাতে শাহনওয়াজের বাড়িতে হামলা চালায় এবং গুলি ও বোমা নিক্ষেপ করে। বোমা বিস্ফোরণে শাহনওয়াজের ভাই সাকিব আক্তার নিহত হন। স্থানীয় লোকজনের দাবী, পুলিশের সামনেই তাণ্ডব চলছিল।
খবর পেয়ে ইসলামপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে আসে।এলাকায় উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ পিকেটও বসানো হয়েছে। অন্যদিকে, হট্টগোলের খবর পেয়ে হাসপাতালে পৌঁছান ইসলামপুরের বিধায়ক আবদুল করিম চৌধুরী। সেখানে সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি পুলিশ ও তৃণমূলের জেলা সভাপতি কানাইলাল আগরওয়াল এবং ব্লক সভাপতি জাকির হুসেনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার থানা ঘেরাও করার হুমকি দেন। এছাড়া এ ঘটনায় যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন বিধায়ক করিম।
No comments:
Post a Comment