মানবদেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হলো কিডনি। রক্ত পরিশোধন থেকে শুরু করে শরীরের অতিরিক্ত জল, লবণ ও টক্সিন বের করে দেওয়ার কাজ এই অঙ্গের প্রধান দায়িত্ব। কিন্তু বিভিন্ন কারণে যখন কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখন শরীরে বিষাক্ত পদার্থ জমতে শুরু করে এবং ধীরে ধীরে প্রাণঘাতী অবস্থার সৃষ্টি হয়। চিকিৎসকরা বলছেন, কিডনি ড্যামেজ একটি নীরব ঘাতক। প্রাথমিক পর্যায়ে এটি ধরা পড়ে না বলেই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিডনি ড্যামেজের প্রধান কারণ ডায়াবেটিস এবং হাই ব্লাড প্রেসার। দীর্ঘদিন ধরে রক্তে শর্করার মাত্রা বা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে না থাকলে কিডনির ক্ষুদ্র রক্তনালী নষ্ট হয়ে যায়। এর পাশাপাশি অতিরিক্ত ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া, অ্যালকোহল, ধূমপান, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, কিডনিতে পাথর বা সংক্রমণও কিডনির ক্ষতির অন্যতম কারণ।
কিডনি ড্যামেজের কিছু সাধারণ লক্ষণ হলো অতিরিক্ত ক্লান্তি, হাত-পা ও চোখ মুখ ফোলা, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া বা বেড়ে যাওয়া, প্রস্রাবে রক্ত বা ফেনা, বমি ভাব, শ্বাসকষ্ট এবং ক্ষুধামন্দা। তবে প্রাথমিক অবস্থায় রোগ ধরা কঠিন হওয়ায় নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা অত্যন্ত জরুরি বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা।
পরীক্ষার মাধ্যমে কিডনি ড্যামেজ ধরা সম্ভব। রক্ত পরীক্ষা, প্রস্রাব পরীক্ষা, আল্ট্রাসাউন্ড বা সিটি স্ক্যান এবং প্রয়োজনে বায়োপসি করে নিশ্চিত হওয়া যায় কিডনির অবস্থা।
চিকিৎসকদের মতে, কিডনি ড্যামেজ প্রতিরোধের জন্য নিয়মিত পর্যাপ্ত জল খাওয়া, ডায়াবেটিস ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা, অতিরিক্ত লবণ ও জাঙ্ক ফুড এড়ানো, ধূমপান ও মদ্যপান ত্যাগ, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত ব্যায়াম অপরিহার্য। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ না খাওয়ার কথাও বিশেষভাবে বলা হয়েছে।
কিডনি ড্যামেজের চিকিৎসা নির্ভর করে রোগের পর্যায়ের উপর। প্রাথমিক পর্যায়ে ওষুধ ও সঠিক খাদ্যাভ্যাসে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হলেও অগ্রসর পর্যায়ে ডায়ালাইসিস বা কিডনি প্রতিস্থাপন প্রয়োজন হয়।
চিকিৎসকরা সতর্ক করেছেন, কিডনি ড্যামেজ অবহেলা করলে মৃত্যুঝুঁকি বাড়ে। তাই প্রাথমিক পর্যায় থেকেই সচেতন হতে হবে। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সঠিক জীবনযাপন এবং সময়মতো চিকিৎসাই কিডনি সুস্থ রাখার মূল উপায়।
No comments:
Post a Comment