আধুনিক জীবনযাত্রার ফলে আজকের সমাজে ডায়াবেটিস একপ্রকার মহামারী আকার ধারণ করেছে। অতিরিক্ত আরামপ্রিয় জীবনযাপন, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস মানুষের শরীরে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। এর ফলেই দিন দিন বাড়ছে ওজন, মানসিক চাপ এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি।
কেন বাড়ছে ডায়াবেটিস?
সদর হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাঃ হিমালয় ঝা জানান—
দৈনন্দিন জীবনে শারীরিক কাজ কমে গেছে, মানুষ বেশি সময় বসে কাটাচ্ছে।
খাদ্যাভ্যাসে প্রসেসড ফুড, অতিরিক্ত তেল-মশলা ও চিনি ব্যবহারের পরিমাণ বেড়েছে।
কাজের চাপ ও মানসিক উদ্বেগও ডায়াবেটিসের অন্যতম কারণ।
অনেক সময় ওষুধ এবং পরিশোধিত খাবার শরীরে ইনসুলিনের ভারসাম্য নষ্ট করে।
ডায়াবেটিস আসলে কী?
ডায়াবেটিস এমন একটি অবস্থা, যেখানে শরীর রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। এর প্রধান কারণ হলো ইনসুলিন হরমোনের অভাব বা কার্যকারিতার সমস্যা।
ডায়াবেটিস দুই ধরনের হতে পারে:
1. টাইপ-১ ডায়াবেটিস: শিশু বা তরুণদের মধ্যে বেশি দেখা যায়, যেখানে শরীর ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না।
2. টাইপ-২ ডায়াবেটিস: বয়স্ক বা মোটা মানুষের মধ্যে বেশি হয়, যেখানে শরীর ইনসুলিন ব্যবহার করতে ব্যর্থ হয়।
ডায়াবেটিসের লক্ষণ
অতিরিক্ত পিপাসা লাগা
বারবার প্রস্রাব হওয়া
হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া বা বাড়া
অতিরিক্ত ক্লান্তি অনুভব করা
ক্ষত শুকাতে দেরি হওয়া
দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হওয়া
কীভাবে প্রতিরোধ সম্ভব?
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ করা সম্ভব জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে:
প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা ব্যায়াম
চিনি ও প্রসেসড ফুড কমানো
তাজা ফল, শাকসবজি ও আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া
পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ
নিয়মিত রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিসকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। আধুনিক জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাস বদল না করলে এই রোগ মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়বে। তাই প্রতিদিনের অভ্যাসে শৃঙ্খলা আনা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনধারাই ডায়াবেটিস প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

No comments:
Post a Comment