ডিমের খোসায় গাছের প্রাকৃতিক যত্ন, বিশেষজ্ঞরা বলছেন পরিবেশবান্ধব সার - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Sunday, September 7, 2025

ডিমের খোসায় গাছের প্রাকৃতিক যত্ন, বিশেষজ্ঞরা বলছেন পরিবেশবান্ধব সার

 


নিজস্ব প্রতিবেদন: রান্নাঘরের বর্জ্য জিনিসগুলির মধ্যে অন্যতম হলো ডিমের খোসা। অনেকেই ব্যবহার শেষে তা ফেলে দেন। কিন্তু অজান্তেই ফেলে দেওয়া এই খোসা হতে পারে গাছের জন্য দারুণ প্রাকৃতিক সার। পরিবেশবান্ধব এই উপায় শুধু গাছের পুষ্টিই বাড়ায় না, মাটির গুণমানও উন্নত করে।


ডিমের খোসায় কী থাকে?


গবেষণা বলছে, ডিমের খোসায় প্রায় ৯৫ শতাংশ ক্যালসিয়াম কার্বোনেট থাকে। এছাড়া ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম ও নানা খনিজ উপাদানও থাকে। এগুলি গাছের শিকড় মজবুত করে, ফুল-ফল বাড়ায় এবং মাটির অম্লতা কমিয়ে ভারসাম্য বজায় রাখে।


ব্যবহার পদ্ধতি


ডিমের খোসা সরাসরি টব বা বাগানের মাটিতে ফেলে দিলে তেমন উপকার মেলে না। সঠিকভাবে ব্যবহার করলেই ফল মিলবে।


খোসা ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে নিতে হবে।


শুকনো খোসা ছোট ছোট টুকরো করে গুঁড়ো করে মাটিতে মিশিয়ে দিতে হবে।


চাইলে খোসা জলে ভিজিয়ে রেখে সেই জল গাছে দেওয়া যেতে পারে, এতে মাটিতে খনিজ উপাদান দ্রুত পৌঁছায়।



পোকামাকড় দূর করতেও কার্যকর


বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিমের খোসা শুধু সার হিসেবে নয়, প্রাকৃতিক কীটনাশক হিসেবেও কাজ করে। খোসার ধারালো কণা শামুক বা কীটপতঙ্গকে গাছের কাছে আসতে বাধা দেয়। ফলে গাছ থাকে সুরক্ষিত।


পরিবেশবান্ধব সমাধান


বাজারি রাসায়নিক সার ব্যবহারে যেমন খরচ বাড়ে, তেমনই পরিবেশের ক্ষতি হয়। তুলনায় ডিমের খোসা ব্যবহার সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক এবং পরিবেশবান্ধব। রান্নাঘরের বর্জ্য কাজে লাগানো যায় বলে অপচয়ও কমে।


বিশেষজ্ঞ মত


কৃষিবিদদের মতে, নিয়মিত ডিমের খোসা ব্যবহার করলে টবের গাছ থেকে শুরু করে বাগানের মাটির উর্বরতা বহুগুণ বাড়ে। তবে অতিরিক্ত ব্যবহার না করাই ভালো। মাসে এক বা দুইবার ব্যবহার যথেষ্ট।


সব মিলিয়ে ডিমের খোসা শুধু ফেলে দেওয়ার জিনিস নয়, বরং গাছের যত্নে এক সহজ, সাশ্রয়ী ও কার্যকর প্রাকৃতিক উপাদান।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad