দিল্লির যমুনার আশেপাশের এলাকায় বন্যার জল কমতে শুরু করেছে। যমুনার জলের স্তর বিপদসীমার নিচে নেমে গেছে, তবে আশেপাশের এলাকায় বন্যার জল কমার সাথে সাথেই বিশৃঙ্খলা শুরু হয়েছে। এখানে নানা ধরণের রোগ ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। যমুনা খাদরে স্থাপিত ত্রাণ শিবিরগুলিতে মানুষ জ্বর, বমি, পেট ব্যথা, ডায়রিয়া, চোখ ও ত্বকের সংক্রমণের পাশাপাশি জয়েন্টে ব্যথার অভিযোগ করছেন। যার কারণে স্বাস্থ্য বিভাগ এই এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স এবং ডাক্তারদের দল মোতায়েন করেছে।
ময়ূর বিহারের আশেপাশের ত্রাণ শিবিরগুলিতে নিযুক্ত ডাক্তারদের দল জানিয়েছে যে প্রতিদিন ৬০ থেকে ৭০ জন রোগী তাদের দেখতে আসছেন। কিছু রোগীর অবস্থা গুরুতর হলে তাদের রেফার করা হচ্ছে। এই রোগীদের ত্রাণ শিবিরগুলিতেও ওষুধ দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু এখনও কিছু ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে না এবং তাই তাদের বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে।
বন্যার কারণে সৃষ্ট রোগ সম্পর্কে, ফেডারেশন অফ অল ইন্ডিয়া মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক অধ্যাপক ডঃ রোহন কৃষ্ণান বলেন যে বন্যার পানিতে অনেক ধরণের ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস এবং পরজীবী থাকে, যা এই রোগগুলির কারণ হতে পারে। বিশেষ করে দূষিত জল পান করলে কলেরা বা টাইফয়েড, ডায়রিয়া, জন্ডিস ইত্যাদি রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। বমি, ডায়রিয়া, জ্বর, পেট ব্যথা এগুলোর লক্ষণ হতে পারে।
জমে থাকা জলে মশার বংশবৃদ্ধির কারণে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া এবং চিকুনগুনিয়া ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। এর সাথে সাথে চর্মরোগ এবং ছত্রাকের সংক্রমণের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়।
কীভাবে প্রতিরোধ করবেন
ডাঃ কৃষ্ণন বলেন যে, কিছু বিষয় খেয়াল রাখলে এই সমস্ত রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।
. নিরাপদ জল পান করুন। শুধুমাত্র ফুটানো জল পান করার চেষ্টা করুন।
. আপনার চারপাশের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রতি বিশেষ যত্ন নিন। খাওয়ার আগে এবং মলত্যাগের পরে সাবান এবং পরিষ্কার জল দিয়ে হাত ধুয়ে নিন।
. বন্যার জল থেকে দূরে থাকুন। শিশুদের পানিতে খেলতে দেবেন না। যখনই জলে যাবেন, বুট বা জুতা পরুন।
. মশা থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য মশারি ব্যবহার করুন। যদি ঘরের আশেপাশে মশা থাকে, তাহলে মশা নিরোধক ক্রিম বা স্প্রে ব্যবহার করতে পারেন।
. কাঁচা বা আধা রান্না করা খাবার খাওয়া এড়িয়ে চলুন, কেবল রান্না করা এবং গরম খাবার খান। বাসি বা খোলা খাবার খাবেন না।
. যদি কোথাও আঘাত পান বা ক্ষত হয়, তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে তা পরিষ্কার করুন এবং ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন।

No comments:
Post a Comment