নেপালের সেনাপ্রধান: চীনে পড়াশোনা করেছেন, ভারতে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন... নেপালের সেনাপ্রধান অশোক রাজ সম্পর্কে আপনি কতটা জানেন? - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Tuesday, September 9, 2025

নেপালের সেনাপ্রধান: চীনে পড়াশোনা করেছেন, ভারতে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন... নেপালের সেনাপ্রধান অশোক রাজ সম্পর্কে আপনি কতটা জানেন?


 কেপি শর্মা ওলির পদত্যাগের পর, সেনাবাহিনী নেপালের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। এখন সেনাবাহিনী সেখানে শাসন করছে। সকলের নজর সেনাপ্রধান জেনারেল অশোক রাজ সিগডেলের উপর, তিনি কী সিদ্ধান্ত নেন তা দেখার জন্য। বলা হচ্ছে যে কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি দেশের জনগণের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন। তবেই জানা যাবে নেপাল কোন দিকে যাচ্ছে। যখনই নেপালে অস্থিতিশীলতা দেখা দিয়েছে, তখনই সেনাপ্রধানের ভূমিকা সর্বদা নির্ধারক বলে বিবেচিত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল নেপালের সেনাপ্রধান জেনারেল অশোক রাজ সিগডেল কে এবং নেপালের নতুন সরকার গঠনে তার ভূমিকা কী হবে?


জেনারেল অশোক রাজ সিগডেল কে?

জেনারেল অশোক রাজ সিগডেল ১৯৬৭ সালের ১ ফেব্রুয়ারি নেপালের রূপানদেহি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি নেপাল সেনাবাহিনীর প্রধান (সিওএএস)। তিনি ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪ সালে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। কিন্তু সেনাবাহিনীতে তার যাত্রা শুরু হয় ১৯৮৭ সালে, যখন তিনি নেপাল সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন। প্রায় চার দশকের সামরিক জীবনে, তিনি ক্ষুদ্রতম এবং বৃহৎ স্তরে নেতৃত্ব দিয়েছেন। নেপালের জনগণের তার প্রতি অগাধ বিশ্বাস রয়েছে।

তিনি কোথায় পড়াশোনা করেছেন এবং কোথায় প্রশিক্ষণ নিয়েছেন?

আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা

জেনারেল সিগডেল কেবল নেপালেই নয়, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি প্রাক্তন যুগোস্লাভিয়া, তাজিকিস্তান এবং লাইবেরিয়ায় শান্তিরক্ষী হিসেবে কাজ করেছেন। এই অভিজ্ঞতা তাকে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি দেয় এবং দেখায় যে তার দৃষ্টিভঙ্গি কেবল নেপালের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় বরং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার উপরও দৃষ্টি নিবদ্ধ করে।

ভারতে সম্মানিত

জেনারেল সিগডেল ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে চার দিনের ভারত সফরে এসেছিলেন। এই সময় রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু তাকে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সম্মানসূচক জেনারেল ঘোষণা করেন। এই ঐতিহ্য দীর্ঘদিন ধরে ভারত ও নেপালের সেনাবাহিনীর মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতীক। এই সম্মাননা দেখায় যে ভারতের সাথে নেপাল সেনাবাহিনীর অংশীদারিত্ব কতটা গভীর।

নেপালের বর্তমান পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর ভূমিকা
নেপালের বর্তমান পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনী প্রধানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। জেনারেল সিগডেল এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থাগুলি শান্তি বজায় রাখার জন্য জনসাধারণের কাছে একটি যৌথ আবেদন জারি করেছে। সেনাবাহিনী নেপালের রাজনীতিতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করে না, তবে সরকার গঠন এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে তাদের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন সরকারকে জনগণ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আশ্বস্ত করতে হবে যে দেশটি স্থিতিশীল, এই দায়িত্বও সেনাপ্রধানের কাঁধে। নেপাল সেনাবাহিনী সর্বদা সংবিধান এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে সমর্থন করেছে। জেনারেল সিগডেলও এই ঐতিহ্য বজায় রাখার দিকে ঝুঁকছেন। নেপালের নতুন সরকারের জন্য ভারত এবং চীন উভয়ের সাথেই সম্পর্ক সংবেদনশীল হবে। যেহেতু সিগডেলের উভয় দেশের সাথেই ব্যক্তিগত এবং পেশাদার সম্পর্ক রয়েছে, তাই এখানে তার ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad