মঙ্গলবার সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী ‘অপারেশন সিন্দুর’-কে ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, যুদ্ধের প্রকৃত সময়কাল আগে থেকে অনুমান করা সম্ভব নয়।
যুদ্ধ সবসময় অনিশ্চিত
জেনারেল দ্বিবেদী বলেন,
“রাশিয়া যখন যুদ্ধ শুরু করেছিল, আমরা সবাই ভেবেছিলাম এটি মাত্র ১০ দিন চলবে। কিন্তু ইরান-ইরাক যুদ্ধ টেনেছিল প্রায় ১০ বছর। অপারেশন সিন্দুরের সময় আমরাও জানতাম না এটি কতদিন স্থায়ী হবে। অনেকেই অবাক হয়েছিলেন, কেন এটি এত দ্রুত শেষ হয়ে গেল, যেন চার দিনের টেস্ট ম্যাচ। যুদ্ধ আসলে সবসময়ই অনিশ্চিত।”
‘কম দামের অস্ত্রও বিস্ময়কর কাজ করতে পারে’
তিনি আরও বলেন,
“আমরা জানি না শত্রুর উপর কোন কৌশল বা প্রযুক্তি কী মানসিক প্রভাব ফেলবে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধেই শক্তির ভুল মূল্যায়ন দেখা গেছে। ভবিষ্যতের জন্য আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে দীর্ঘ যুদ্ধের জন্য পর্যাপ্ত সম্পদ আমাদের হাতে রয়েছে। আমরা দেখেছি, কম দামের উচ্চ প্রযুক্তির অস্ত্রও অনেক সময় ‘ডেভিড বনাম গোলিয়াথ’-এর মতো পরিস্থিতিতে বড়ো সুবিধা দেয়। সস্তা হলেও কার্যকর প্রযুক্তি শক্তিশালী শত্রুকেও পিছিয়ে দিতে সক্ষম।”
উপগ্রহের ভূমিকা
ইসরো চেয়ারম্যান ভি. নারায়ণনও অভিযানের সময় মহাকাশ প্রযুক্তির কার্যকারিতা তুলে ধরেন। তিনি জানান,
“অপারেশন সিন্দুরের সময় আমাদের সব উপগ্রহ ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করেছে। রিয়েল-টাইম গোয়েন্দা তথ্য ও নজরদারি সেনাবাহিনীকে দিয়েছে, যা আক্রমণকে করেছে আরও নির্ভুল।”
ভবিষ্যতের যুদ্ধের দিকনির্দেশ
জেনারেল দ্বিবেদীর মতে, ভবিষ্যতের লড়াইয়ে আসল শক্তি হবে কম খরচে উচ্চ প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার।
‘ডেভিড বনাম গোলিয়াথ’ গল্পের প্রতীকী অর্থ
এই প্রসঙ্গে তিনি বাইবেলের ‘ডেভিড বনাম গোলিয়াথ’-এর কাহিনির উদাহরণ দেন। ফিলিস্তিনের দৈত্য যোদ্ধা গোলিয়াথের বিরুদ্ধে ইহুদি তরুণ রাখাল দায়ূদ শুধুমাত্র একটি গুলতি আর পাথর দিয়ে লড়াই করে তাকে পরাজিত করেছিলেন। এই গল্প প্রতীক করে দুর্বল পক্ষের অপ্রত্যাশিত বিজয়কে।

No comments:
Post a Comment