মালদহের চাঁচোলে বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ঘিরে ফের উত্তপ্ত পরিস্থিতি। মারধর ও অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগে পাঁচ বিজেপি কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের মুক্তির দাবিতে শুক্রবার গভীর রাতে চাঁচোল থানার সামনে ধর্নায় বসেন উত্তর মালদহের সাংসদ খগেন মুর্মু। অভিযোগ, পুলিশ ভুয়ো মামলা রুজু করেছে।
ঘটনা ২৯ আগস্ট মাঝরাতে। অভিযোগ, চাঁচোলের আশ্রমপাড়ায় বিজেপির দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। স্থানীয়দের দাবি, বিজেপি গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য প্রসেনজিৎ শর্মা ও একই পঞ্চায়েতের সদস্যার স্বামী সুমিত সরকারের মধ্যে বিবাদ চরমে ওঠে। লাঠি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে উভয় পক্ষ একে অপরের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে বলে অভিযোগ। সংঘর্ষে আহত হন সাতজন। তাঁদের মধ্যে দুজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি রয়েছেন চাঁচোল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশাল পুলিশবাহিনী, মোতায়েন করা হয় কমব্যাট ফোর্সও।
ঘটনার পর কোনও পক্ষ থানায় অভিযোগ না জানালেও পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে। সেই সূত্রে পাঁচ বিজেপি কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপরই প্রতিবাদে নেমে পড়েন সাংসদ খগেন মুর্মু। তিনি দাবি করেন, ঘটনায় প্রকৃত অপরাধী ধরা পড়েনি, বরং নির্দোষ বিজেপি কর্মীদের ফাঁসানো হয়েছে। সাংসদের অভিযোগ, সংঘর্ষের রাতে এক তৃণমূল নেতা পুলিশের সামনেই বেল্ট দিয়ে মারধর করেছিলেন এক সাদা পোশাকের পুলিশকর্মীকে, অথচ তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
প্রসঙ্গত, প্রসেনজিৎ শর্মা আশ্রমপাড়া বুথের সক্রিয় বিজেপি সদস্য ও যুব নেতা হিসেবে পরিচিত। অপরদিকে সুমিত সরকার একসময় তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে শুভেন্দু অধিকারীর অনুগামী অম্লান ভাদুড়ির হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দেন। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের মতে, চাঁচোলে আদি বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে নবাগতদের টানাপোড়েন দীর্ঘদিনের, সেই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বই ওই রাতে বিস্ফোরিত হয়।
যদিও জেলা নেতৃত্ব এ বিষয়ে নীরব। সাংসদ খগেন মুর্মু গোষ্ঠী সংঘর্ষের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে সরাসরি দাবি করেছেন, গ্রেপ্তার হওয়া কর্মীরা নির্দোষ এবং তাঁদের মুক্তি দিতে হবে। থানার আইসির সঙ্গে দেখা করতে না পেরে তিনি সারা রাত ধরে থানার সামনে অবস্থান বিক্ষোভে বসে থাকেন।

No comments:
Post a Comment