২৮ বনাম ৭৪—অদ্ভুত বয়সের ব্যবধান, তবুও গভীর প্রেমের গল্প - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Friday, November 21, 2025

২৮ বনাম ৭৪—অদ্ভুত বয়সের ব্যবধান, তবুও গভীর প্রেমের গল্প



বলা হয়, ভালোবাসা অন্ধ। কেউ প্রেমে পড়লে তার সামনে বয়স, ধর্ম, জাত—কোনো বাধাই থাকে না। অনেক সময় বয়সের বড় পার্থক্যও গুরুত্ব পায় না। ৮–১০ বছরের পার্থক্য বোঝা যায়, কিন্তু কেউ কি দাদার বয়সী একজন পুরুষের প্রেমে পড়তে পারে? অবাক লাগলেও, এমন ঘটনা প্রায়ই দেখা যায়। উদাহরণ হিসেবে ভারতীয় অভিনেতা কবির বেদীকে ধরুন—তিনি তার স্ত্রী পারভীন দুসাঞ্জের থেকে প্রায় ৩০ বছর বড়।


আজ পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি আরও বড় বয়সের পার্থক্যের এক দম্পতিকে—শ্যালন (২৮) এবং ডেভিড (৭৪)। তাদের বয়সের ফারাক ৪৬ বছর। ডেভিড প্রায়ই তার প্রেমিকা শ্যালনকে দামি উপহার দেন। তাই অনেকে শ্যালনকে ‘গোল্ড ডিগার’, অর্থাৎ অর্থলোভী বলে থাকেন। তবে ডেভিড এসব মানতে নারাজ।


সম্প্রতি তারা ইউটিউবের Love Don’t Judge শো-তে হাজির হন। বয়সের বিশাল ব্যবধানের কারণে তাদের প্রায়ই সম্পর্ক নিয়ে ব্যাখ্যা দিতে হয়। অনেকে ধরে নেন, শ্যালন শুধু ডেভিডের টাকার জন্যই তার সঙ্গে আছে। শোতে ডেভিড বলেন, “অনেকেই ভাবে শ্যালন আমার সঙ্গে টাকার জন্য আছে—কিন্তু এটা একেবারেই সত্যি নয়।”


যদিও মজার ব্যাপার হলো, ভিডিওর শুরুতেই শ্যালন ডেভিডের দেওয়া কয়েকটি দামী উপহার দেখান—ডিজাইনার জুতা, ব্র্যান্ডেড হ্যান্ডব্যাগ, আর তার সবচেয়ে প্রিয় উপহার হলুদ রঙের আইম্যাক কম্পিউটার। তিনি স্বীকার করেন, “আমি যা চাই, বেশিরভাগই পাই।” এমনকি তিনি একটি দামি লুই ভিটন ব্যাগও দেখান। ডেভিডও বলেন, “সে যা চায়, প্রায় সবই পায়।”


ডেভিড শুধু উপহারই দেন না—তিনি শ্যালনের গাড়ির কিস্তি, বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিস পর্যন্ত পরিশোধ করেছেন। তাদের থাকার জন্য একটি বাড়িও কিনেছেন এবং শ্যালনের সন্তানের পড়াশোনার খরচও তাকেই বহন করতে হয়।


ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোতেই তাদের প্রথম দেখা। শ্যালন সন্তানের সঙ্গে ঘুরতে গিয়েছিলেন। ডেভিড তখন অবসর নেওয়ার পর বাসচালক হিসেবে খণ্ডকালীন কাজ করতেন। শ্যালনকে দেখেই তিনি প্রেমে পড়ে যান। কথা বলতে বলতে তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে ডেভিড শ্যালনকে ফ্লোরিডায় চলে আসতে বললে দু’জনে একসঙ্গেই থাকতে শুরু করেন।


শ্যালন প্রথমে ডেভিডের প্রকৃত বয়স জানতেন না, তবে বুঝেছিলেন যে তিনি অনেক বড়। বাইরে গেলে অনেক সময় লোকজন ডেভিডকে তার বাবা বা দাদু ভেবে বসে—এতে শ্যালন অস্বস্তিতে পড়েন।


ডেভিড বলেন, অনেক নারী তাদের সম্পর্ক দেখে ঈর্ষা করে, আর অনেক পুরুষ তাকে বাহবা দেয়—কারণ শ্যালন তার থেকে বহু বছর ছোট। শ্যালন অবশ্য জোর দিয়ে বলেন, “আমি লোভী নই। ডেভিডকে আমি তার চরিত্রের জন্য ভালোবাসি, তার টাকা বা উপহারের জন্য নয়।”

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad