রাশিয়ার তেল ট্যাঙ্কারে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা, জানুন এতে কীভাবে নড়ে যাবে ভারতের তেলনীতি? সাধারণ মানুষের পকেটে বাড়তি চাপ পড়বে না তো? - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Sunday, November 30, 2025

রাশিয়ার তেল ট্যাঙ্কারে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা, জানুন এতে কীভাবে নড়ে যাবে ভারতের তেলনীতি? সাধারণ মানুষের পকেটে বাড়তি চাপ পড়বে না তো?


রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর তিন বছরেরও বেশি সময় কেটে গেছে, এবং উভয় দেশই পিছু হটতে রাজি নয়। এটি এখন কেবল একটি যুদ্ধ নয়, বরং একটি বৈশ্বিক জ্বালানি যুদ্ধে পরিণত হয়েছে। এদিকে, ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা বলছেন যে ইউক্রেনীয় নৌবাহিনীর ড্রোন দুটি রাশিয়ান তেল ট্যাঙ্কার আক্রমণ করেছে। এই ট্যাঙ্কারগুলি কৃষ্ণ সাগরে যাতায়াত করছিল এবং রাশিয়ার ছায়া নৌবহরের অংশ ছিল। তুর্কি কর্মকর্তারা এই ট্যাঙ্কারগুলির নাম দিয়েছেন কাইরোস এবং ভিরাত, এবং দুটিতেই গাম্বিয়ার পতাকা উড়ছিল। আসুন জেনে নেওয়া যাক এটি ভারতের তেল নীতিতে কীভাবে প্রভাব ফেলবে।



ইউক্রেন কেন তেল ট্যাঙ্কারে হামলা চালাল?
ইউক্রেন রাশিয়ার শ্যাডো ফ্লিটকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল, যা পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে গোপনে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল বিশ্বে পরিবহন করে। রাশিয়া তার অর্থনীতির জন্য, বিশেষ করে ইউক্রেনের সাথে চলমান যুদ্ধের জন্য, তেল ও গ্যাস বিক্রয় থেকে প্রাপ্ত রাজস্বের উপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করে। এর পেছনের উদ্দেশ্য স্পষ্ট ছিল: রাশিয়ার যুদ্ধ তহবিলের সবচেয়ে বড় উৎস বন্ধ করা।

রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল ভারতের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?

২০২২ সালে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে, ভারত তার অপরিশোধিত তেলের ২০% এরও বেশি রাশিয়া থেকে আমদানি করে আসছে। এর তিনটি প্রধান কারণ হল এটি সস্তা, ডলার সাশ্রয় করে এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখে। এই কারণেই যুদ্ধ সত্ত্বেও ভারতে পেট্রোল এবং ডিজেলের দাম মূলত নিয়ন্ত্রণে ছিল।

রাশিয়ার তেল সরবরাহ ব্যাহত হলে কী হবে?

রাশিয়ার তেল সরবরাহ ব্যাহত হলে, ভারতের উপর এর বিধ্বংসী প্রভাব পড়তে পারে। অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশচুম্বী হবে, কারণ ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেল ইতিমধ্যেই অস্থির। তদুপরি, সরবরাহ ব্যাহত হলে দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। তদুপরি, পেট্রোল এবং ডিজেলের দাম আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে, যার ফলে সরকারের উপর ভর্তুকির চাপ বৃদ্ধি পাবে, যা রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণ হতে পারে। তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে পরিবহন, শাকসবজি, দুধ এবং রেশনের খরচ বৃদ্ধি পাবে, যা সাধারণ মানুষের জন্য দ্বিগুণ আঘাত হবে।

বিজ্ঞাপন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের চাপ কি বাড়বে?

আমেরিকা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইতিমধ্যেই চায় ভারত রাশিয়ার থেকে দূরে থাকুক এবং সেখান থেকে সস্তা তেল কেনা বন্ধ করুক। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ তীব্রতর হওয়ার সাথে সাথে ড্রোন হামলা বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে, যার ফলে ভারত সরকারের উপর কূটনৈতিক চাপ বৃদ্ধি পাবে। ভারত এখন এক মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে।

ভারত কোন মোড়ে আটকে আছে?

এটি ভারতের জন্য একটি বড় সমস্যা হয়ে উঠতে পারে। ভারত যদি রাশিয়া থেকে সস্তা তেল কেনা অব্যাহত রাখে, তাহলে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে, তবে ভারতের বিরুদ্ধে পশ্চিমা দেশগুলির ক্ষোভ বৃদ্ধি পাবে। তবে, ভারত যদি পশ্চিমা দাবি মেনে নেয়, তাহলে দেশের কূটনীতি আরও শক্তিশালী হবে, তবে তেল আরও ব্যয়বহুল হবে। ভারতকে এখানে সতর্ক থাকতে হবে, কারণ তেল শোধনাগার এবং ট্যাঙ্কার যুদ্ধের অস্ত্র হয়ে উঠেছে এবং ২০২৬ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী তেলের বড় ধাক্কার সম্ভাবনা বেড়েছে।

আরও পড়ুন: 'রহস্যময় জল, অক্সিজেনের অভাব, এবং...' কেন কৃষ্ণ সাগর বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক সমুদ্র অঞ্চল? রুট বন্ধ হলে তেল কোথা থেকে আসবে?

এর পরিণতি কী হতে পারে?

মনে হচ্ছে ইউক্রেন এখন আর কেবল সীমান্ত যুদ্ধ নয়, বরং তেল, ডলার, মুদ্রাস্ফীতি এবং বিশ্ব রাজনীতির যুদ্ধ। যদি এই যুদ্ধে রাশিয়ার তেলের ব্যবহার অন্য দিকে সরানো হয়, তাহলে ভারতের পুরো তেল পাইপলাইন পুনরায় চালু করতে হতে পারে, যা কেবল তেলের দামই আকাশছোঁয়া করবে না বরং দেশে অস্থিতিশীলতাও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad