লাইফস্টাইল ডেস্ক, ১২ নভেম্বর ২০২৫: আবহাওয়ার পরিবর্তনের সাথে সাথে হালকা ঠাণ্ডা হাওয়া বইতে শুরু হয়েছে। ঠাণ্ডা হিমেল হাওয়া মনে প্রশান্তি তো এনে দেয় কিন্তু এই সময়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে সর্দি, কাশি, জ্বর, ত্বকের সংক্রমণ এবং হজমজনিত সমস্যা দেখা দেয়। তাই এই সময় চাই পুষ্টিকর কিছু। আপনিও যদি প্রাকৃতিক এবং পুষ্টিকর কিছু খুঁজছেন, তাহলে আমলকি এবং হলুদের রস বা জুস একটি দুর্দান্ত বিকল্প হতে পারে। শতাব্দী ধরে, আয়ুর্বেদে আমলকি এবং হলুদকে ঔষধি হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে আসছে। এগুলি শরীরকে ভেতর থেকে মজবুত করে এবং ঋতু পরিবর্তনের সময়ে হওয়া বিভিন্ন অসুস্থতা থেকে রক্ষা করে। আসুন প্রথমে এর উপকারিতা এবং তারপর এই রস তৈরির সহজ রেসিপি সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
উপকারিতা -
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
আমলকি ভিটামিন সি-এর একটি সমৃদ্ধ উৎস, যা শ্বেত রক্তকণিকার সংখ্যা বৃদ্ধি করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা মজবুত করে। অন্যদিকে হলুদে থাকা কারকিউমিন ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে।
হজম উন্নত করে
এই রস হজমশক্তি উন্নত করে। আমলকি অ্যাসিডিটি এবং গ্যাস কমায়, অন্যদিকে হলুদ অন্ত্রের প্রদাহ প্রশমিত করে।
ত্বক উজ্জ্বল করে
এই রসে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বক থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয় এবং ত্বককে পরিষ্কার ও উজ্জ্বল করে।
সর্দি-কাশি থেকে মুক্তি দেয়
হলুদ এবং আমলকি উভয়ই অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্যে ভরপুর, যা গলা ব্যথা, কাশি এবং সর্দি-কাশির উপশম করে।
লিভারকে ডিটক্সিফাই করে
এই রস লিভারকে পরিষ্কার করে এবং এর কার্যকারিতা উন্নত করে। এটি শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করে।
ডায়াবেটিসের জন্য উপকারী
আমলূ রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং হলুদ ইনসুলিন সংবেদনশীলতাও বাড়ায়।
চুলের জন্য উপকারী
আমলকি চুলের গোড়ায় পুষ্টি জোগায় এবং চুল পড়া রোধ করে। অন্যদিকে হলুদ মাথার ত্বককে সুস্থ রাখে।
তৈরির পদ্ধতি-
প্রথমে একটি আমলকি থেকে বীজ বের করে টুকরো করে কেটে নিন।
এবার, আধা চা চামচ হলুদ গুঁড়ো বা এক ইঞ্চি কাঁচা হলুদ, এক চতুর্থাংশ কাপ জল দিয়ে মিক্সারে পিষে নিন।
রস ছেঁকে নিন, এক চিমটি কালো গোলমরিচ গুঁড়ো, স্বাদমতো লেবুর রস এবং মধু যোগ করে সকালে খালি পেটে এটি পান করুন। সপ্তাহে ৩-৪ বার এই রসটি পান করলে আপনি পুরো ঋতু জুড়ে সুস্থ, উদ্যমী এবং রোগমুক্ত থাকতে পারবেন।
বি.দ্র: এই প্রতিবেদনে দেওয়া টিপস শুধুমাত্র সাধারণ তথ্যের জন্য। কোনও ভাবেই যোগ্য চিকিৎসা পদ্ধতির বিকল্প নয়। যেকোনও সমস্যা বা উদ্বেগের জন্য সর্বদা আপনার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন।

No comments:
Post a Comment