কলকাতা, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সাম্প্রতিক বঙ্গ সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বুধবার এই মন্তব্য করেছেন বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তার। সেইসঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, রাজ্যে জয়লাভ করা শুধু বাংলার জন্যই নয়, সমগ্র দেশের জন্যই জরুরি।
এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাজু বিস্তা বলেন, "স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তিন দিনের সফর এবং একটি সংবাদ সম্মেলনে তাঁর মন্তব্য "সঠিক লক্ষ্যে আঘাত হেনেছে।" তাঁর সংযোজন, "রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি ভালো নয়।"
তিনি অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর জবাব দেওয়া এড়িয়ে গেছেন এবং তার পরিবর্তে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, "স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টানা তিন দিন ধরে পশ্চিমবঙ্গে ছিলেন। পশ্চিমবঙ্গ জয় করা শুধু পশ্চিমবঙ্গের জন্যই নয়, সমগ্র দেশের জন্যই অপরিহার্য। পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান পরিস্থিতি ভালো নয় এবং আমি মনে করি গতকালের সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যা বলেছেন তা সঠিক লক্ষ্যে আঘাত হেনেছে। আর মমতা দিদি, যেমনটা আমরা সবসময় দেখি, অধৈর্য হয়ে পড়েন এবং তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর জবাব না দিয়ে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্পর্কে নানা মন্তব্য করেছেন।"
বিজেপি সাংসদ বলেন, "যেভাবে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ভারত সরকারের সমালোচনা করেছেন, তার জবাব জনগণ ২০২৬ সালের নির্বাচনে দেবে। আমি বলব যে ২০২৬ সাল কেবল শুরু এবং এবার এটি পশ্চিমবঙ্গের জন্য সত্যিই একটি শুভ নববর্ষ হবে।"
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে রাজনৈতিক পারদ ক্রমশই চড়ছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মঙ্গলবার একে অপরের বিরুদ্ধে তীব্র বাক্যবাণ ছুঁড়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের ওপর তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, "গত ১৪ বছর ধরে ভয় এবং দুর্নীতি রাজ্যের পরিচয়ে পরিণত হয়েছে। একই সাথে তিনি রাজ্যে অবৈধ অনুপ্রবেশের বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি তাঁর সরকারকে সীমান্ত বেড়ার জন্য জমি দিতে অস্বীকার করারও অভিযোগ করেন।
একটি সংবাদ সম্মেলনে মঙ্গলবার অমিত শাহ বলেন, "রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকারের দুর্নীতির কারণে পশ্চিমবঙ্গে উন্নয়ন থেমে গেছে। মোদী সরকারের শুরু করা সমস্ত কল্যাণমূলক প্রকল্প এখানে তোলাবাজ সিন্ডিকেটের শিকার হয়েছে। গত ১৪ বছর ধরে ভয় এবং দুর্নীতিই পশ্চিমবঙ্গের পরিচয়ে পরিণত হয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "২০২৬ সালের ১৫ই এপ্রিলের পর যখন পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠিত হবে, তখন আমরা বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির পুনরুজ্জীবন শুরু করব। এই 'বঙ্গভূমি' আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিজেপি গঠন করেছিলেন ডঃ শ্যামা প্রসাদ মুখোপাধ্যায়, যিনি ছিলেন এখানকার একজন বড় নেতা।"
শাহর মন্তব্যে পাল্টা আক্রমণ শানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে তিনি শাহকে দুর্যোধন ও দুঃশাসনের সঙ্গে তুলনা করেছেন। শাহের অভিযোগের জবাবে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, তৃণমূল সরকার পেট্রাপোল এবং অন্ডালে বেড়া দেওয়ার জন্য জমি দিয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন "বাংলায় এক দুঃশাসন এসেছে। নির্বাচন এলেই দুর্যোধন আর দুঃশাসনরা আসে। আজ ওরা বলছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জমি দেননি। আমি যদি জমি না দিতাম, তাহলে কী হতো? পেট্রাপোলে জমি কে দিয়েছে? অন্ডালে জমি কে দিয়েছে?" এর পাশাপাশি এসআইআর নিয়েও অমিত শাহ-সহ নির্বাচন কমিশনকে এক হাত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

No comments:
Post a Comment