ন্যাশনাল ডেস্ক, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫: ডাইনি সন্দেহে এক দম্পতিকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার অভিযোগ উঠল একদল গ্ৰামবাসীর বিরুদ্ধে। আসামের কার্বি আংলং জেলায় এই নির্মম ঘটনাটি ঘটেছে। পুলিশ বুধবার এ খবর জানিয়েছে। ঘটনাটি ৩০শে ডিসেম্বর রাতে এই পাহাড়ি জেলার হাওরাঘাটের কাছে বেলুগুড়ি মুন্ডা গ্রামে ঘটে। মৃতরা হলেন গার্দি বিরুয়া (৪৩) এবং তাঁর স্ত্রী মীরা বিরুয়া (৩৩)। পুলিশের মতে, গ্রামবাসীদের একটি দল ওই দম্পতিকে আক্রমণ করে এবং জাদুবিদ্যা চর্চার অভিযোগ তুলে তাঁদের পুড়িয়ে মারে বলে অভিযোগ।
এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কার্বি আংলং-এর সিনিয়র পুলিশ সুপার পুষ্পরাজ সিং বলেন, এটি একটি ডাইনি সন্দেহে হত্যার ঘটনা বলে মনে হচ্ছে। তিনি বলেন, "এটি একটি ডাইনি সন্দেহে খুনের ঘটনা এবং মনে হচ্ছে তাঁরা আক্রমণ করে তাঁদের পুড়িয়ে মেরেছে।" তিনি আরও জানান যে, অপরাধীদের গ্রেফতার করার জন্য পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।
একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ আধিকারিক জানান যে, ৩০শে ডিসেম্বর রাত প্রায় ৮:২৫ মিনিটে পুলিশ ফোনে খবর পায় যে, হাওরাঘাট থানার অধীন ১ নম্বর বেলোগুড়ি মুন্ডা গাঁওয়ে ডাইনি সন্দেহে গ্রামবাসীরা এক দম্পতিকে খুন করেছে। ওই পুলিশ কর্তা বলেন, "খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে পৌঁছে দেখা যায় যে, ১ নম্বর বেলোগুড়ি মুন্ডা গাঁওয়ের বাসিন্দা মৃত মাতু বেরুয়ার ছেলে গার্দি বেরুয়ার বাড়িটি ভাঙচুর করা অবস্থায় আছে এবং বাড়ির উঠানে আগুন জ্বলছে। খোঁজখবর নিয়ে জানা যায় যে, গার্দি বেরুয়া (বয়স আনুমানিক ৪৬ বছর) এবং তাঁর স্ত্রী মীরা বেরুয়াকে ডাইনি সন্দেহে গ্রামবাসীরা খুন করেছে এবং তাদের মৃতদেহ বাড়ির উঠানে পুড়িয়ে ছাই করে ফেলা হয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় কিছু জিনিস বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে রক্তমাখা মাটির নমুনা, একটি কাঠের লাঠি এবং তরল গোবর ভর্তি একটি প্লাস্টিকের গামলা, যা ঘটনাস্থল থেকে রক্তের দাগ মুছে ফেলার জন্য ব্যবহার করা হয় বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। অপরাধস্থলটি সুরক্ষিত করার জন্য সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, এর আগে, চলতি বছরের ৬ই মে আসাম সরকার মানব পাচার প্রতিরোধ এবং ডাইনি সন্দেহে প্রাণনাশ বন্ধ করার জন্য আসাম রাজ্য নীতি বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করে।

No comments:
Post a Comment