সারা শরীরে চুলকানি এবং প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া? কিডনিতে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা বৃদ্ধি একটি গুরুতর সতর্কতামূলক লক্ষণ - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Tuesday, January 6, 2026

সারা শরীরে চুলকানি এবং প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া? কিডনিতে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা বৃদ্ধি একটি গুরুতর সতর্কতামূলক লক্ষণ

 


যদি আপনার সারা শরীরে ক্রমাগত চুলকানি, প্রস্রাব করার সময় জ্বালাপোড়া, ঘন ঘন ক্লান্তি বা ফোলাভাব অনুভব করেন, তাহলে এটিকে হালকাভাবে নেবেন না। এই লক্ষণগুলি কিডনিতে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিতে পারে। ক্রিয়েটিনিন হল একটি বর্জ্য পদার্থ যা কিডনি ফিল্টার করে শরীর থেকে অপসারণ করে। যখন কিডনি সঠিকভাবে কাজ করে না, তখন রক্তে এর মাত্রা বৃদ্ধি পায়, যা গুরুতর স্বাস্থ্যগত প্রভাব ফেলে।

ক্রিয়েটিনিন কী এবং কেন এটি বৃদ্ধি পায়?

ক্রিয়েটিনিন হল পেশী বিপাক দ্বারা উৎপাদিত একটি বর্জ্য পদার্থ। সাধারণত, কিডনি এটি প্রস্রাবের মাধ্যমে নির্গত করে।

তবে, কিডনির কার্যকারিতা হ্রাস, পানিশূন্যতা, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাবার বা কিছু ওষুধের কারণে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে।

ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা বৃদ্ধির গুরুতর লক্ষণ

কিডনির সমস্যা বাড়ার সাথে সাথে শরীরে বেশ কিছু লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করে, যার মধ্যে রয়েছে:

সারা শরীর বা ত্বকে তীব্র চুলকানি

প্রস্রাব করার সময় জ্বালাপোড়া বা ব্যথা

কালো বা ফেনাযুক্ত প্রস্রাব

পা, গোড়ালি এবং মুখমণ্ডলে ফোলাভাব

ক্রমাগত ক্লান্তি এবং দুর্বলতা

বমি বমি ভাব, বমি, বা ক্ষুধামন্দা

শ্বাসকষ্ট (গুরুতর ক্ষেত্রে)

প্রস্রাবে চুলকানি এবং জ্বালাপোড়া কেন হয়?

যখন কিডনি সঠিকভাবে বিষাক্ত পদার্থ অপসারণ করতে অক্ষম হয়, তখন এই বর্জ্য পদার্থগুলি রক্তে জমা হয়। এটি ত্বক এবং মূত্রতন্ত্রকে প্রভাবিত করে, যার ফলে চুলকানি এবং জ্বালাপোড়া প্রস্রাবের মতো সমস্যা দেখা দেয়।

কার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি?

কিছু লোকের কিডনি সমস্যার ঝুঁকি বেশি থাকে:

ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত ব্যক্তিরা

যারা দীর্ঘ সময় ধরে ব্যথানাশক ওষুধ গ্রহণ করেন

যারা কম জল পান করেন

যারা বেশি লবণ এবং প্রোটিন গ্রহণ করেন

বয়স্ক এবং স্থূলকায় ব্যক্তিরা

কখন আপনার পরীক্ষা করা উচিত?

যদি উপরে উল্লিখিত লক্ষণগুলি অব্যাহত থাকে, তাহলে দেরি করবেন না। সিরাম ক্রিয়েটিনিন পরীক্ষা, প্রস্রাব পরীক্ষা এবং জিএফআর পরীক্ষার মাধ্যমে কিডনির অবস্থা নির্ণয় করা যেতে পারে।

কিডনি সুস্থ রাখার টিপস

প্রচুর পরিমাণে জল পান করুন

লবণ এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার কমিয়ে দিন

ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ খাবেন না

রক্তে শর্করা এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন

নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিয়মিত করুন

সারা শরীরে চুলকানি এবং প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া কেবল ছোটখাটো সমস্যা নয় বরং কিডনিতে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা বৃদ্ধির প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। প্রাথমিক রোগ নির্ণয় এবং সঠিক চিকিৎসা গুরুতর কিডনি রোগ প্রতিরোধ করতে পারে। যদি এই ধরনের লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ হল অবিলম্বে একজন ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad