বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান মোহাম্মদ ইউনূস বলেছেন যে আওয়ামী লীগ যদি তাদের অতীত শাসনের জন্য ক্ষমা চায়, তাহলে সরকার রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় ফিরে আসার কথা বিবেচনা করতে পারে। শেখ হাসিনা আবার রাজনীতিতে প্রবেশ করতে পারেন কিনা তা নিয়ে এখন বিতর্ক চলছে। আওয়ামী লীগ বর্তমানে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে নিষিদ্ধ।
বাংলাদেশের রাজনীতি আরেকটি বড় মোড় নিচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান মোহাম্মদ ইউনূস বলেছেন যে আওয়ামী লীগ যদি তার অতীত শাসনের জন্য ক্ষমা চায়, তাহলে সরকার তাদের সাথে পুনর্মিলন এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় ফিরে আসার কথা বিবেচনা করতে পারে। এই বিবৃতির ফলে জল্পনা শুরু হয়েছে যে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনী রাজনীতিতে পুনরায় প্রবেশ করতে পারেন।
মোহাম্মদ ইউনূস স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে আওয়ামী লীগকে তার শাসনামলে কথিত অশাসন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। ইউনূস এর আগে আওয়ামী লীগ এবং শেখ হাসিনার কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি করেছিলেন, কিন্তু এবার তার বক্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে কারণ এটি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মধ্যে এসেছে। বর্তমানে, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে নিষিদ্ধ।
বাংলাদেশি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা আমেরিকা থেকে ফিরেছেন
এই বিবৃতিটি এসেছে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান পাঁচ দিনের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর থেকে ফিরে আসার পর। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, খলিলুর রহমান পররাষ্ট্র দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পল কাপুর এবং অ্যালিসন হুকারের সাথে দেখা করেছেন। এই বৈঠকগুলিতে কী আলোচনা হয়েছে তার বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, বাংলাদেশি রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন যে আলোচনাগুলি নির্বাচনে সকল দলের অংশগ্রহণের উপর কেন্দ্রীভূত ছিল।
যুক্তরাষ্ট্র এখনও প্রকাশ্যে বলেনি যে ইউনূস সরকারের অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন করা উচিত। এদিকে, ভারত ধারাবাহিকভাবে বলে আসছে যে বাংলাদেশে নির্বাচন সকল রাজনৈতিক দলের অন্তর্ভুক্ত হওয়া উচিত। ২০২৫ সালের নভেম্বরে নয়াদিল্লিতে খলিলুর রহমান এবং ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের মধ্যে বৈঠকেও এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।
বিএনপি ও জামায়াতের বিরুদ্ধে নির্বাচনী অভিযোগ
এদিকে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তারিক রহমান বাংলাদেশে ফিরে আসার পর, বেশ কয়েকজন বিএনপি নেতা প্রকাশ্যে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে কথা বলছেন। জামায়াত এবং তার মিত্র জাতীয় নাগরিক দলকেও নির্বাচনী প্রক্রিয়া প্রভাবিত করার অভিযোগ আনা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে আওয়ামী লীগ এবং শেখ হাসিনা যদি মুহাম্মদ ইউনূসের শর্ত মেনে নেয়, তাহলে রাজনৈতিক আবহাওয়া বদলে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত নির্বাচন স্থগিত করা হতে পারে এবং একটি নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করা হতে পারে। সকলের দৃষ্টি এখন আওয়ামী লীগ এবং শেখ হাসিনার পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে।

No comments:
Post a Comment