ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ০৬ জানুয়ারি ২০২৬: গত বেশ কয়েকদিন ধরে বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নির্মম অত্যাচারের খবর সামনে আসছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেদের ওপর ক্রমাগত আক্রমণের ফলে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার বাংলাদেশে রানা প্রতাপ বৈরাগী নামে এক যুবকের খুনের তথ্য বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এরপর, সোমবার গভীর রাতে, আরেক হিন্দু যুবককে খুনের খবর সামনে এসেছে। মৃতের নাম শরৎ চক্রবর্তী মণি।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে রানা প্রতাপ বৈরাগী খুনের কয়েক ঘন্টার মধ্যেই আরও এক হিন্দু যুবককে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনাটি ঘটে ৫ জানুয়ারী রাত ১০টার দিকে নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলার চরসিন্দুর বাজারে। এখানে, হিন্দু দোকানদার শরৎ চক্রবর্তী মণিকে আকস্মিকভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করা হয় এবং গুরুতর আহত অবস্থায় ফেলে চলে যায় অজ্ঞাত দুষ্কৃতকারীরা। পরে তার আঘাতের কারণে তিনি মারা যান। মণি ছিলেন মদন চক্রবর্তীর জ্যেষ্ঠ পুত্র।
রানা প্রতাপ বৈরাগী এবং শরৎ চক্রবর্তী মণির হত্যাকাণ্ড এমন এক সময়ে ঘটল যখন বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এর আগে, দীপু চন্দ্র দাস নামে একজন হিন্দু কারখানার কর্মীকে উন্মত্ত জনতা পিটিয়ে খুন করেছিল। এর পর অমৃত মণ্ডল নামে আরেক হিন্দু যুবককেও খুন করা হয়। ময়মনসিংহ জেলায়, বজেন্দ্র বিশ্বাস নামে একজন হিন্দু যুবককে তার সহকর্মী রক্ষী গুলি করে খুন করেছিল। হিন্দু ব্যবসায়ী খোকন দাসও দুষ্কৃতী আক্রমণের শিকার হন। এরই মাঝে, রানা প্রতাপ বৈরাগী এবং মনি চক্রবর্তীর হত্যাকাণ্ড আবারও বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। তিন সপ্তাহের মধ্যে এটি ষষ্ঠ ঘটনা যেখানে হিন্দু যুবককে খুন করা হয়েছে।
অত্যাচারের এখানেই শেষ নয়। বাংলাদেশে হিন্দু বিধবাকে নির্মম গণধর্ষণের ঘটনাও সামনে এসেছে। একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই আত্মীয়দের একটি ঘরে আটকে রেখে মহিলাকে গণধর্ষণ এবং তারপর তাকে গাছের সাথে বেঁধে কয়েকজন মারধর করে এবং তার চুল কেটে ফেলে বলে অভিযোগ। অভিযুক্তদের একজন মহিলার ঝপর বর্বরতার সমস্ত সীমা অতিক্রম করে। ঘটনাটি ঘটেছে বাংলাদেশের ঝিনাইদহ জেলার কালিগঞ্জে, যেখানে নদীপাড়া এলাকায়। অভিযোগ করা হয়েছে যে, ৪০ বছর বয়সী হিন্দু বিধবাকে প্রথমে ধর্ষণ করা হয়, তারপর একটি গাছের সাথে বেঁধে তাঁর চুল কেটে ফেলা হয়েছিল। অভিযুক্তরা ঘটনাটি ভিডিও করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরালও করে। নৃশংসতার পর মহিলাটি অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান এবং স্থানীয়রা তাঁকে সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে, তিনি অভিযুক্ত শাহীন এবং তার সহযোগীর বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন।

No comments:
Post a Comment