প্রেসকার্ড নিউজ বিনোদন ডেস্ক, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:০০:০১ : ছোটবেলা থেকেই আমরা আমাদের বড়দের বলতে শুনেছি সকালে কথা বলার আগে চিন্তা করতে হবে, কারণ সেই সময় আমরা যা বলি তার প্রভাব পড়ে। অনেকেই এটাকে নিছক কথা বলে উড়িয়ে দেন, কিন্তু হিন্দু ধর্মগ্রন্থে এই বিশ্বাসের পেছনে একটি গভীর বিশ্বাস আছে। বলা হয়েছে যে দিনের ২৪ ঘন্টার মধ্যে একটি নির্দিষ্ট সময় আছে যখন দেবী সরস্বতী স্বয়ং মানুষের জিহ্বায় বাস করেন। এই সময় যা বলা হয় তা কেবল শব্দ নয়, বরং বাস্তবে পরিণত হওয়ার ক্ষমতা রাখে। এই বিশেষ সময়টিকে ব্রহ্ম মুহুর্ত বলা হয়, যা শাস্ত্রে সবচেয়ে পবিত্র এবং শুভ বলে বিবেচিত। এই সময় ভোর ৩টা থেকে সূর্যোদয়ের আগে পর্যন্ত স্থায়ী হয়।
বিশ্বাস করা হয় যে এই সময়ে একজন ব্যক্তির মন শান্ত থাকে, চিন্তাভাবনা স্পষ্ট থাকে এবং শব্দের প্রভাব প্রবল থাকে। অতএব, এই সময়ে যা বলা হয় তা কেবল নিজের উপরই নয়, অন্যদের উপরও প্রভাব ফেলে। এই কারণে, কথার ব্যাপারে বিশেষভাবে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভোপাল-ভিত্তিক জ্যোতিষী এবং বাস্তু পরামর্শদাতা পণ্ডিত হিতেন্দ্র কুমার শর্মা এই বিষয়ে আরও তথ্য প্রদান করেছেন।
হিন্দু ধর্মে, দিনের প্রতিটি ঘন্টার নিজস্ব তাৎপর্য রয়েছে। ব্রহ্ম মুহুর্তকে সবচেয়ে বিশেষ বলে মনে করা হয়। সাধারণত, এই সময়টি ভোর ৩:৩০ থেকে সূর্যোদয়ের আগে পর্যন্ত। শাস্ত্র অনুসারে, এই সময়টি হল পরিবেশ শান্ত থাকে, চারপাশে নীরবতা থাকে এবং মন সবচেয়ে স্থিতিশীল থাকে। এই সময়ে ঋষি-সন্তরা ধ্যান, জপ এবং অনুশীলন করেন। বলা হয় যে এই সময়ে করা পূজা এবং মন্ত্র জপ দ্রুত ফল দেয় কারণ মন বিচরণ করে না এবং একাগ্রতা সহজেই বজায় থাকে।
জিহ্বায় দেবী সরস্বতীর বাসস্থানের বিশ্বাস
- শাস্ত্রে একটি আকর্ষণীয় তথ্য বলা হয়েছে যে দেবী সরস্বতী ২৪ ঘন্টায় একবার প্রতিটি ব্যক্তির জিহ্বায় থাকেন। বিশ্বাস অনুসারে, এই সময়টিকে ভোর ৩:২০ থেকে ৩:৪০ এর মধ্যে ধরা হয়। এই সময়ে কেউ যা বলে তা সত্য হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে।
এই কারণেই প্রাচীনরা এই সময়ে ভুল, কঠোর বা নেতিবাচক কিছু বলতে নিরুৎসাহিত করেন। তারা বলেন যে এই সময়ে ভুল শব্দ উচ্চারিত হলে তার প্রভাব দীর্ঘ সময় ধরে অনুভূত হতে পারে।
এই বিশ্বাস কেবল ধর্মীয় বিবেচনার উপর নয় বরং ব্যবহারিক কারণের উপরও ভিত্তি করে। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর, মন দিনের উদ্বেগ এবং চাপ থেকে মুক্ত থাকে। একজন ব্যক্তি যা ভাবেন এবং বলেন তা হৃদয় থেকে আসে।
এই কারণেই সকালে যা বলা হয় তা মনের মধ্যে গভীরভাবে গেঁথে যায়। যদি কেউ এই সময়ে নিজেকে দুর্বল, দুর্ভাগ্যবান বা অকেজো বলে, তবে সেই চিন্তা ধীরে ধীরে অভ্যাসে পরিণত হয়। তবে, সকালে ইতিবাচক শব্দ বলা আত্মবিশ্বাস এবং ইতিবাচক চিন্তাভাবনা জাগিয়ে তোলে।
শাস্ত্রে স্পষ্টভাবে বলা আছে যে, বিশেষ করে ব্রহ্মমুহুর্তের সময় শব্দ কড়া হওয়া উচিত নয়। কারণ এই সময়ে বলা কথা কেবল শ্রোতারই নয়, বক্তাকেও ক্ষতি করতে পারে।
যদি কেউ রাগের বশে নিজের বা অন্য কারও সম্পর্কে খারাপ কথা বলে, তাহলে সেই কথাগুলো তার মনে গেঁথে যায়। পরে, সেই চিন্তাভাবনা তার আচরণে প্রকাশ পেতে শুরু করে। তাই, সকালে শান্ত থাকা, কম কথা বলা এবং সাবধানে শব্দ নির্বাচন করা ভালো বলে মনে করা হয়।
ব্রহ্মমুহুর্তের সময় কেবল ভালো এবং স্পষ্ট কথা বলার চেষ্টা করা উচিত। এই সময় ঈশ্বরের নাম উচ্চারণ করা, নিজের সাথে সদয় কথা বলা এবং ইতিবাচক চিন্তাভাবনা দিয়ে দিন শুরু করা উপকারী বলে মনে করা হয়।

No comments:
Post a Comment