প্রেসকার্ড নিউজ বিনোদন ডেস্ক, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:০০:০১ : আমরা যখন উপাসনা করি তখন প্রায়শই আবেগ আমাদের হৃদয়কে গভীরভাবে স্পর্শ করে। কখনও কখনও প্রার্থনা করার সময় হঠাৎ করে আমাদের চোখে জল আসে এবং লোকেরা ভয় পায় যে এটি পাপের লক্ষণ হতে পারে। তবে, সত্য হল যে প্রতিটি অশ্রু পাপের লক্ষণ নয়। কিছু অশ্রু আমাদের মধ্যে নেতিবাচক শক্তি নির্গত করার একটি উপায়, অন্যগুলি ঈশ্বরের প্রতি আমাদের অপরিসীম ভালবাসার সরাসরি ফলাফল। আপনি যদি ভাবছেন যে উপাসনার সময় কান্না সঠিক নাকি ভুল, তাহলে এই অশ্রুর পিছনের কারণটি বোঝা গুরুত্বপূর্ণ। আপনি কি আপনার শরীরে অস্বস্তি এবং ব্যথা অনুভব করছেন, নাকি আপনার হৃদয় কেবল ঈশ্বরের স্মরণে পূর্ণ? এটি বোঝা কঠিন হতে পারে, তবে সঠিক তথ্যের সাহায্যে আপনি আরও সত্য এবং শান্তির সাথে আপনার ভক্তি অনুভব করতে সক্ষম হবেন। ভোপাল-ভিত্তিক জ্যোতিষী এবং বাস্তু পরামর্শদাতা পণ্ডিত হিতেন্দ্র কুমার শর্মা এই বিষয় সম্পর্কে আরও ব্যাখ্যা করেছেন।
আমরা যখন ঈশ্বরের উপাসনা করি, তখন আমাদের আত্মা এবং মন উভয়ই গভীরভাবে সক্রিয় হয়। এই সময়ে, আমাদের আবেগ এতটাই শক্তিশালী হয়ে ওঠে যে কান্না স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। পূজার সময় কান্নার সাধারণত দুটি কারণ থাকে:
১. নেতিবাচক শক্তির প্রভাব:
কখনও কখনও, আমাদের চারপাশে বা আমাদের শরীরে এমন শক্তি থাকে যা আমাদের দুর্বল করে বা বিরক্ত করে। এই শক্তি আমাদের আবেগকেও প্রভাবিত করে। পূজার সময় যদি আপনি ভারী বা অস্বস্তিকর বোধ করেন, অথবা পেশীতে ব্যথা বা অস্থিরতা অনুভব করেন, তাহলে এটি একটি লক্ষণ যে আপনার মধ্যে নেতিবাচক শক্তি সক্রিয় রয়েছে।
যদি আপনার স্বাস্থ্য, সম্পর্ক, জীবন, ধর্ম বা জ্যোতিষশাস্ত্র সম্পর্কিত কোনও ব্যক্তিগত উদ্বেগ থাকে, তাহলে দয়া করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ করুন এবং আমরা আপনার নাম গোপন রাখব এবং তথ্য প্রদান করব।
২. ঈশ্বরের প্রতি অতিরিক্ত ভালোবাসা:
দ্বিতীয় কারণটি সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং খুবই সুন্দর। যদি আপনি কাঁদতে কাঁদতে আপনার হৃদয়ে ঈশ্বরের প্রতি আনন্দ, ভক্তি এবং ভালোবাসা অনুভব করেন, তাহলে এটি আপনার প্রকৃত অনুভূতির প্রতীক। এই ধরনের অশ্রু আবেগের একটি স্বাভাবিক প্রবাহ এবং এটি দমন করার প্রয়োজন নেই।
কীভাবে নেতিবাচক শক্তি এবং প্রেমের অশ্রু চিনবেন?
-আপনার শরীরের প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করুন: উপাসনার সময় কান্না করার সময় যদি আপনি ব্যথা, অস্বস্তি বা শরীরে সামান্য আঘাত অনুভব করেন, তাহলে এটি নেতিবাচক শক্তির লক্ষণ।
আপনার হৃদয়ের অবস্থা অনুভব করুন: যদি ঈশ্বরের স্মরণে অশ্রু ঝরে পড়ে এবং আপনার হৃদয় আনন্দিত এবং হালকা বোধ করে, তাহলে এটি প্রেমের লক্ষণ।
এই লক্ষণগুলি সনাক্ত করে, আপনি বুঝতে পারবেন আপনার ভক্তি ইতিবাচক কিনা, নাকি আপনার কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা দরকার।
উপাসনার সময় আবেগ নিয়ন্ত্রণ করার উপায়
১. ধীরে ধীরে শ্বাস নিন: গভীর শ্বাস শরীরের শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখে এবং নেতিবাচক প্রভাব হ্রাস করে।
২. ঈশ্বরের নাম স্মরণ করুন: মনকে শান্ত করতে এবং প্রেম বৃদ্ধি করতে ঈশ্বরের নাম বা মন্ত্র জপ করুন।
৩. একটি ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করুন: উপাসনার স্থান পরিষ্কার রাখুন, মৃদু আলোয় আলোকিত করুন এবং সম্ভব হলে ধূপ বা ঘি প্রদীপ রাখুন।
৪. আবেগ দমন করবেন না: যদি প্রেমের কারণে অশ্রু ঝরে, তাহলে সেগুলি অনুভব করুন। এটিই ভক্তির প্রকৃত অনুভূতি।
ঈশ্বরের প্রতি প্রকৃত ভালোবাসা
অশ্রু হল ঈশ্বরের প্রতি আপনার ভালোবাসার সবচেয়ে সুন্দর প্রকাশ। এগুলো দেখায় যে আপনি হৃদয়ে তাঁর খুব কাছে। এই ধরনের অশ্রু দমন করার চেষ্টা করবেন না। আবেগের সাথে সংযোগ স্থাপন আপনার ভক্তিকে শক্তিশালী করে।

No comments:
Post a Comment