কলকাতা, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭:৪০:০২ : এর আগে SIR নোটিস পাঠানো হয়েছিল অভিনেতা-সাংসদ দেবকে। এর মধ্যেই তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ মিমি চক্রবর্তীও নোটিস পেয়েছেন। সিপিএম নেতা কলতান দাশগুপ্তকেও নোটিস দেওয়া হয়েছে। এবার নোটিস গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের আইটি সেল প্রধান দেবাংশু ভট্টাচার্যের কাছে। নোটিস পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এই যুব নেতা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ,“AI ব্যবহার করে তৃণমূল সমর্থকদের প্রোফাইল ট্র্যাক করা হচ্ছে। এরপর BJP সেই তালিকা নির্বাচন কমিশনের হাতে তুলে দিচ্ছে। তৃণমূল সমর্থকদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার জন্যই এই চক্রান্ত।”
দেবাংশু বলেন,“আমাকে ২৭ জানুয়ারি হাজির হতে বলা হয়েছে। আমি একা নই। আমার বোন এবং পরিবারের আরও চারজনের কাছে ফোন এসেছে। এখন পর্যন্ত আমার কাছে চারটি কল এসেছে। আমি শুধু এটুকুই বলতে পারি, আমার মামি ও বাবা–মায়ের সবার নাম ২০০২ সালের তালিকায় ছিল। তার ভিত্তিতেই আমাদের প্রোজেনিটি ম্যাপিং করা হয়েছে। সেই কারণেই ৫৮ লক্ষের তালিকায় আমাদের কোনও নাম আসেনি। অর্থাৎ আমরা পাস করেছি।”
এই অবস্থায় কমিশন রাজ্যের এক বড় অংশের মানুষকে ‘লজিক্যাল গড়বড়’-এর শুনানির জন্য ডেকে পাঠাচ্ছে। তবে তৃণমূল নেতারা এই বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। স্বয়ং তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিষয়টি নিয়ে আওয়াজ তুলেছেন। দেবাংশুর দাবি, তাঁর পরিবারের কোনও সদস্যের ক্ষেত্রেই লজিক্যাল গড়বড়ির প্রশ্ন নেই। তাঁর কথায়,“আমার বাবা–মা, বোন—সবার নামের বানান, বয়স, কোনও কার্ডেই কোনও কার্ডের সঙ্গে কোনও মিসম্যাচ নেই। শিশিরবাবুর মতো কুমার মাঝখানে ঢুকে পড়েনি। চন্দ্রা আসেনি, বা চন্দ্র কুমার বাদ পড়েনি—এমন কিছুই হয়নি। আমার জন্মতারিখও ঠিক আছে। এখনও বুঝতে পারছি না, কেন নোটিস পাঠানো হয়েছে।”
এরপর তিনি একের পর এক BJP-এর বিরুদ্ধে সরব হন। কমিশনের বিরুদ্ধেও তিনি প্রতিবাদ জানান। পদ্ম শিবিরকে আক্রমণ করে বলেন, “ভারতীয় জনতা পার্টি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ট্র্যাক করার চেষ্টা করছে, যাতে বোঝা যায় কারা তৃণমূলের সমর্থক। নোটিস শুধু তৃণমূল সমর্থকদের নয়, তাঁদের পরিবারের সদস্যদেরও পাঠানো হচ্ছে। যাঁদের ১০ জনকে নোটিস দেওয়া হয়েছে, তাঁদের মধ্যে ৮ জনই তৃণমূলের। বিজেপি AI-এর মাধ্যমে এই কাজ করছে এবং সরাসরি তা নির্বাচন কমিশনের হাতে তুলে দিচ্ছে। তাদের উদ্দেশ্য তৃণমূল সমর্থকদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া।”

No comments:
Post a Comment