প্রেসকার্ড নিউজ বিনোদন ডেস্ক, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:০০:০১ : চাণক্য নীতিতে একটি অত্যন্ত প্রসিদ্ধ শ্লোক রয়েছে, যেখানে শত্রুর সঙ্গে মোকাবিলা করার সবচেয়ে বাস্তবসম্মত ও বুদ্ধিদীপ্ত কৌশল ব্যাখ্যা করা হয়েছে—
“অনুলোমেন বলিনং প্রতিলোমেন দুর্জনম্।
আত্মতুল্যবলং শত্রুঃ বিনয়েন বলেন বা॥”
এর অর্থ হলো—
যে শত্রু শক্তিশালী, তার সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষে না গিয়ে কৌশল ও বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
যে শত্রু দুর্জন বা ছোটখাটো চালবাজ, তার ক্ষেত্রে উল্টো কৌশল অবলম্বন করতে হবে—অর্থাৎ তার চেয়েও বেশি চতুর হতে হবে।
যে শত্রু শক্তিতে আপনার সমান, তাকে আগে বিনয়ের মাধ্যমে বোঝানোর চেষ্টা করতে হবে; তাতেও কাজ না হলে প্রয়োজনে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
আচার্য চাণক্য বলেছেন, সব শত্রু এক রকম নয়। তাদের শক্তি, স্বভাব ও পরিস্থিতি অনুযায়ী কৌশল বদলানোই বুদ্ধিমানের কাজ। আজকের সময়েও এই শ্লোক সমানভাবে প্রাসঙ্গিক—হোক তা কর্মক্ষেত্রে বস বা সহকর্মীর সঙ্গে দ্বন্দ্ব, প্রতিবেশীর সঙ্গে ঝামেলা, কিংবা জীবনের কোনও বিরক্তিকর মানুষ।
শক্তিশালী শত্রুর সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষ এড়িয়ে চলুন
যখন শত্রু আপনার চেয়ে বেশি শক্তিশালী—যেমন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, প্রভাবশালী ব্যক্তি বা আর্থিকভাবে শক্ত কেউ—তখন সরাসরি লড়াই করা ক্ষতিকর হতে পারে। চাণক্য বলেন, এমন পরিস্থিতিতে ‘অনুলোম’ পথ অবলম্বন করুন। অর্থাৎ বাইরে থেকে সহযোগিতার ভান রাখুন, তার দুর্বল দিকগুলো খুঁজে নিন এবং নীরবে নিজের অবস্থান মজবুত করুন।
ছোটখাটো চালবাজ শত্রুর ক্ষেত্রে উল্টো কৌশল নিন
দুর্জন বলতে বোঝায় ঈর্ষাকাতর, পিছনে কথা বলা বা ছোটখাটো ষড়যন্ত্রকারী মানুষ। এদের সঙ্গে সরাসরি তর্ক-বিতর্ক করে লাভ নেই। চাণক্যের মতে, এদের ক্ষেত্রে ‘প্রতিলোম’ আচরণই শ্রেয়। অর্থাৎ তাদের কৌশলকে গুরুত্ব না দিয়ে উপেক্ষা করুন, প্রয়োজনে আরও বিচক্ষণ হয়ে পরিস্থিতি সামলান এবং নিজের শক্তি অপচয় করবেন না।
সমান শক্তির শত্রুর সঙ্গে আগে বিনয়, পরে কঠোরতা
যে শত্রু না খুব শক্তিশালী, না খুব দুর্বল—তার ক্ষেত্রে প্রথমে বিনয়ের পথ নিন। আলোচনা, বোঝাপড়া বা সমঝোতার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করুন। যদি তাতেও কাজ না হয়, তখন প্রয়োজনে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। চাণক্য মনে করতেন, সংঘর্ষ সবসময় শেষ বিকল্প হওয়া উচিত।
শত্রু মোকাবিলার কিছু ব্যবহারিক উপায়
চাণক্য নীতি শুধু তত্ত্ব নয়, বাস্তব জীবনের পথও দেখায়—
শত্রুর দুর্বলতা বুঝে নিজের শক্তি বাড়ান।
নিজের পরিকল্পনা গোপন রাখুন।
শান্ত থাকুন, রাগের মাথায় সিদ্ধান্ত নেবেন না।
প্রয়োজনে সামাজিক বা আইনি সহায়তা নিন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, শত্রুর পেছনে সময় ও শক্তি নষ্ট না করে নিজের উন্নতি ও লক্ষ্যেই মন দিন।
এই শ্লোক আমাদের শেখায়, শত্রুর সঙ্গে লড়াইয়ের পথ এক নয়। পরিস্থিতি বুঝে অনুলোম, প্রতিলোম কিংবা বিনয়-বল—যে কৌশল প্রযোজ্য, সেটিই বেছে নিতে হবে। তবেই শত্রুর প্রভাব থেকে মুক্ত হয়ে জীবনে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।

No comments:
Post a Comment