তিব্বত, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬: ভোরের আলো ফোটার আগেই ভূমিকম্পের প্রকোপ। শনিবার ভোরে ৩:৪০ নাগাদ তিব্বতে আঘাত হানে এই ভূমিকম্প। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৩.০। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ১০ কিলোমিটার গভীরে। এনসিএস এই তথ্য প্রকাশ করেছে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ।
ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস)-এর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত বুধবারও তিব্বতে রিখটার স্কেলে ৪.৩ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ভূমিকম্পটি ৯০ কিলোমিটার গভীরে সংঘটিত হয়। এক্স-এ (আগের ট্যুইটার) একটি পোস্টে এনসিএস বলেছে, "ভূমিকম্পের মাত্রা: ৪.৩, তারিখ: ১৪/০১/২০২৬ ১২:২৭:৪১ আইএসটি, অক্ষাংশ: ২৭.৯৬ উত্তর, দ্রাঘিমাংশ: ৮৭.৮৭ পূর্ব, গভীরতা: ৯০ কিমি, অবস্থান: তিব্বত।"
গত ১০ দিনের মধ্যে এটি ছিল ওই অঞ্চলে দ্বিতীয় ভূমিকম্প। ১৪ জানুয়ারি তিব্বতে ৪.৩ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। সেই ভূমিকম্পটির গভীরতাও ছিল ৯০ কিলোমিটার।
গভীর ভূমিকম্পের চেয়ে অগভীর ভূমিকম্প সাধারণত বেশি বিপজ্জনক-
অগভীর ভূমিকম্প সাধারণত গভীর ভূমিকম্পের চেয়ে বেশি বিপজ্জনক। এর একটি কারণ হল অগভীর ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট ভূমিকম্পের তরঙ্গ ভূপৃষ্ঠে পৌঁছানোর জন্য কম দূরত্ব অতিক্রম করে, যার ফলে ভূমি কম্পন বেশি হয়। এতে ভবনের ক্ষতি বেশি হয় এবং আরও বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটে। টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষের কারণে তিব্বত মালভূমি তার ভূমিকম্পের কার্যকলাপের জন্য পরিচিত।
প্রসঙ্গত, ১৯শে জানুয়ারী লাদাখের একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লেহেতে শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫.৭। ভূমিকম্পের ফলে এলাকার বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এর উৎপত্তিস্থল ছিল লাদাখের লেহ শহরে, ভূপৃষ্ঠ থেকে ১৭১ কিলোমিটার গভীরে।
এর পাশাপাশি ১৯ জানুয়ারী (সোমবার) ভোরে দিল্লীতেও একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ২.৮ এবং এর উৎপত্তিস্থল ছিল উত্তর দিল্লীতে, ভূপৃষ্ঠ থেকে ৫ কিলোমিটার গভীরে।
ভূমিকম্প কেন হয়?
পৃথিবীর পৃষ্ঠের আকস্মিক নড়াচড়াকে ভূমিকম্প বলা হয়। এটি মূলত টেকটোনিক প্লেটের নড়াচড়ার কারণে ঘটে। অন্যান্য কারণগুলির মধ্যে রয়েছে আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপ, মানুষের কার্যকলাপ এবং ভূমিধস বা গুহা-ধ্বস। প্রশান্ত মহাসাগরের চারপাশে অবস্থিত রিং অফ ফায়ারে (প্রশান্ত মহাসাগরকে ঘিরে) বিশ্বে সবচেয়ে বেশি ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটে।


No comments:
Post a Comment