প্রেসকার্ড নিউজ বিনোদন ডেস্ক, ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:০০:০১ : গরুড় পুরাণ হিন্দু ধর্মের প্রধান পুরাণগুলোর একটি। এতে ভগবান বিষ্ণু গরুড়জিকে মৃত্যু, পুনর্জন্ম, কর্মফল এবং আত্মার যাত্রা সম্পর্কে বিস্তারে ব্যাখ্যা করেছেন। এই পুরাণ অনুযায়ী, মানুষের পরবর্তী জন্ম মৃত্যুর আগেই তার কর্মের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়ে যায়। পূর্বজন্মের সঞ্চিত কর্ম, এই জন্মের প্রারব্ধ কর্ম এবং মৃত্যুকালের শেষ চিন্তা—এই তিনটির সম্মিলনেই পরবর্তী জন্মের রূপ নির্ধারিত হয়। গরুড় পুরাণে মোট ৮৪ লক্ষ যোনির উল্লেখ আছে, যার মধ্যে মানবযোনিকে সর্বশ্রেষ্ঠ বলা হয়েছে। সৎকর্মে উচ্চ যোনি এবং অসৎকর্মে নিম্ন যোনি বা নরকভোগ প্রাপ্ত হয়। চলুন, গরুড় পুরাণ অনুযায়ী এমন কিছু কর্ম জেনে নেওয়া যাক, যেগুলোর মাধ্যমে পরবর্তী জন্ম নির্ধারিত হয়।
গরুড় পুরাণ অনুযায়ী, মৃত্যুকালের শেষ চিন্তা (অন্তিম চিত্তভাব) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভগবান বিষ্ণু বলেছেন—“যে ভাব নিয়ে মানুষ মৃত্যু বরণ করে, সেই ভাবেই তার পরবর্তী জন্ম হয়।” যদি শেষ মুহূর্তে মন ঈশ্বরে লীন থাকে বা সাত্ত্বিক চিন্তা থাকে, তবে উচ্চলোক বা শ্রেষ্ঠ জন্ম লাভ হয়। আর যদি মনে পাপ, লোভ, ক্রোধ বা কামনা থাকে, তবে নিম্ন যোনিতে যেতে হয়। পাশাপাশি, পূর্বজন্মের সঞ্চিত কর্ম ও এই জন্মের প্রারব্ধ কর্ম মিলেই পরবর্তী জন্মের কাঠামো তৈরি করে। যমলোকে যমরাজ কর্মের হিসাব নেন এবং সেই অনুযায়ী যোনি নির্ধারিত হয়।
গরুড় পুরাণে বলা হয়েছে—যে ব্যক্তি ধর্ম, বেদ, পুরাণ বা ঈশ্বরের অবমাননা করে, নাস্তিকতার প্রচার করে বা পূজা-পাঠ থেকে দূরে থাকে, তার পরবর্তী জন্ম কুকুরের যোনিতে হয়। এমন ব্যক্তি ধর্মের গুরুত্ব বোঝে না এবং সারাজীবন ভোগ-বিলাসে লিপ্ত থাকে। মৃত্যুর পর তাকে কুকুররূপে জন্ম নিতে হয়, যেখানে অপমান ও দুঃখ ভোগ করতে হয়। এটি ধর্মের প্রতি অপরাধের ফল হিসেবে গণ্য।
বন্ধুত্বকে সবচেয়ে পবিত্র সম্পর্ক বলা হয়। কিন্তু যারা বন্ধুর সঙ্গে ছলনা করে, বিশ্বাসঘাতকতা করে বা প্রতারণা করে, তাদের পরবর্তী জন্ম শকুনের যোনিতে হয়। গরুড় পুরাণে বলা হয়েছে, শকুন অন্যের মৃতদেহ খেয়ে বেঁচে থাকে। বন্ধুর সঙ্গে প্রতারণাকারীদেরও পরবর্তী জন্মে তেমনই দুঃখ ও অপমান সহ্য করতে হয়। বন্ধুত্বের অবমাননার শাস্তি হিসেবে শকুনযোনি প্রাপ্ত হয়।
গরুড় পুরাণে বলা হয়েছে—যারা নিজেদের চালাকিতে অন্যদের বোকা বানায়, সুযোগ নিয়ে প্রতারণা করে, তাদের পরবর্তী জন্ম পেঁচার যোনিতে হয়। পেঁচা রাতে থাকে এবং অন্ধকারে জীবনযাপন করে—যা মূর্খতা ও ছলনার প্রতীক। তেমনই যারা গালিগালাজ করে, কটু কথা বলে বা কথার মাধ্যমে অন্যকে কষ্ট দেয়, তাদের পরবর্তী জন্ম ছাগলের যোনিতে হয়। ছাগলের ডাক চিৎকারপূর্ণ ও কষ্টদায়ক—এটাই সেই কটু বাক্যের ফল।
গরুড় পুরাণ আমাদের শিক্ষা দেয় যে মৃত্যুর আগেই কর্মের মাধ্যমে পরবর্তী জন্ম নির্ধারিত হয়ে যায়। সৎকর্মে শ্রেষ্ঠ জন্ম এবং অসৎকর্মে নিম্ন যোনি লাভ হয়। তাই জীবনে সাত্ত্বিক কর্ম, ভক্তি, দান ও সত্যের পালন করুন। পিতৃপুরুষদের সম্মান করুন এবং বাক্যকে মধুর রাখুন—এতে পরবর্তী জন্ম হবে সুখী ও উন্নত।

No comments:
Post a Comment