লাইফস্টাইল ডেস্ক, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬: অনেককেই হয়তো বলতে শুনেছেন, তাঁদের গোড়ালিতে তীব্র ব্যথা। মানুষ এটিকে একটি সাধারণ ঘটনা বলে মনে করলেও গোড়ালি ব্যথা অন্তর্নিহিত স্বাস্থ্য সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। গোড়ালি ব্যথা সবসময় ক্লান্তি বা বয়সের কারণে হয় না। কখনও কখনও, এটি অন্তর্নিহিত স্বাস্থ্য সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।
গোড়ালি ব্যথার প্রধান কারণ-
গোড়ালি ব্যথা কেবল একটি সাধারণ সমস্যা নয়; এটি প্লান্টার ফ্যাসাইটিস, আর্থ্রাইটিস বা ইউরিক অ্যাসিডের মতো রোগের লক্ষণও হতে পারে। সময়মতো রোগ নির্ণয়, সঠিক জুতো এবং ঘরোয়া প্রতিকারের মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। যেমন -
১. প্লান্টার ফ্যাসাইটিস
এটি গোড়ালি ব্যথার সবচেয়ে সাধারণ কারণ। এটি গোড়ালির নীচের ফ্যাসিয়ার প্রদাহ সৃষ্টি করে।
লক্ষণ: সকালে প্রথম পা ফেলার সময় তীব্র ব্যথা।আরাম পেতে গরম জলে পা ভিজিয়ে রাখুন।
কুশনযুক্ত জুতা পরুন, দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা এড়িয়ে চলুন।
২. গোড়ালির স্পার
গোড়ালির হাড়ের নিচে ক্যালসিয়াম জমার ফলে হাড়ে কাঁটার মতো বৃদ্ধি ঘটে।
লক্ষণ: হাঁটা বা দৌড়ানোর সময় ছুরিকাঘাতের মতো ব্যথা।
এর জন্য ফিজিওথেরাপি, ডাক্তারের নির্দেশ অনুসারে ক্যালসিয়াম বা প্রদাহ-বিরোধী ওষুধ এবং আরামদায়ক জুতা পরা।
৩. আর্থ্রাইটিস
রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, বিশেষ করে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, গোড়ালিতে ফোলাভাব এবং ব্যথা সৃষ্টি করে।
সমস্যা দূরীকরণে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন।
হালকা ব্যায়াম, প্রদাহ-বিরোধী ওষুধ খান এবং শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
৪. উচ্চ ইউরিক অ্যাসিড
রক্তে ইউরিক অ্যাসিড জমা হলে, এটি জয়েন্ট এবং গোড়ালিতে ব্যথা করে।
স্বস্তি পেতে প্রচুর জল পান করুন, লাল মাংস, ডাল এবং অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন। ডাক্তারের পরামর্শ নিন এবং ইউরিক অ্যাসিড পরীক্ষা করান।
৫. সার্ভাইকাল বা স্নায়ুর সংকোচন
কখনও কখনও, মেরুদণ্ড বা পায়ের স্নায়ুর সংকোচনের ফলেও গোড়ালিতে ব্যথা হতে পারে।
আরাম পেতে ফিজিওথেরাপি স্ট্রেচিং এবং যোগব্যায়াম করুন। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা এড়িয়ে চলুন।
গোড়ালি ব্যথা কমানোর ঘরোয়া প্রতিকার-
লবণ দিয়ে হালকা গরম জলে ভিজিয়ে রাখলে ফোলাভাব এবং ব্যথা কমে যাবে।
সরষের তেলে রসুন দিয়ে গরম করুন। এই তেল দিয়ে ম্যাসাজ করলে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পাবে এবং ব্যথা কমে যাবে।
হলুদ-দুধ ফোলাভাব কমাতে সাহায্য করবে।
বিশ্রাম নিন এবং নরম জুতা পরুন - শক্ত তলা বা উঁচু হিল এড়িয়ে চলুন।
কখন ডাক্তারের সাথে দেখা করবেন?
ব্যথা যদি ৭-১০ দিন ধরে থাকে।
ফোলাভাব বা লালভাব দেখা যায়।
হাঁটতে যদি অসুবিধা হয় বা তীব্র জ্বালাপোড়া অনুভূত হয়।

No comments:
Post a Comment