কলকাতা, ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬:১৮:০১ : ভারতীয় নৌবাহিনী পশ্চিমবঙ্গের হলদিয়ায় বঙ্গোপসাগরে ভারতের কৌশলগত বাড়তি সুবিধা, হলদিয়ায় নতুন নৌঘাঁটি; চীন–পাকিস্তান–বাংলাদেশ ত্রিভুজে কড়া নজর নতুন নৌঘাঁটি স্থাপন করছে। এর উদ্দেশ্য হল বঙ্গোপসাগরে ভারতের উপস্থিতি আরও জোরদার করা, সামুদ্রিক নজরদারি বাড়ানো এবং চীন-পাকিস্তানের পাশাপাশি বাংলাদেশ সংলগ্ন অঞ্চলের পরিবর্তিত সামুদ্রিক গতিবিধির উপর কড়া নজর রাখা।
হলদিয়া হুগলি নদীর তীরে অবস্থিত এবং বঙ্গোপসাগর থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দূরে স্যান্ডহেডস ডিপ-সি এলাকার কাছে। এখানে আগে থেকেই থাকা হলদিয়া ডক কমপ্লেক্স (১৯৭০-এর দশক থেকে চালু) বড় জাহাজ পরিচালনায় সক্ষম, ফলে নৌবাহিনীকে প্রাথমিক অবকাঠামো প্রস্তুত অবস্থায়ই পাওয়া যাচ্ছে।
নতুন ঘাঁটিতে মূলত ফাস্ট ইন্টারসেপ্টর ক্রাফট এবং নিউ ওয়াটার জেট ফাস্ট অ্যাটাক ক্রাফট মোতায়েন করা হবে। এই জাহাজগুলি উপকূলীয় নিরাপত্তা, জলদস্যু বিরোধী অভিযান এবং দ্রুত টহলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর ফলে সামুদ্রিক নজরদারি, মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগ মোকাবিলার কাজেও গতি আসবে।
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বঙ্গোপসাগরে চীনের নৌ-তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বাংলাদেশে চট্টগ্রাম ও পায়রা বন্দরের মতো অবকাঠামো প্রকল্পে চীনের বড় বিনিয়োগ রয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশি নৌবাহিনীও চীনা যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন পাচ্ছে। অন্যদিকে পাকিস্তান আগেই চীনা নৌ-প্ল্যাটফর্ম, সাবমেরিন ও নজরদারি ব্যবস্থার সাহায্যে নিজের সামুদ্রিক সক্ষমতা বাড়িয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে হলদিয়ার ঘাঁটি পূর্ব দিকে গড়ে ওঠা চীন-পাকিস্তান-বাংলাদেশ সামুদ্রিক সমীকরণের উপর নজর রাখার জন্য ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠবে।
হলদিয়ার কৌশলগত অবস্থান ভারতীয় নৌবাহিনীকে বঙ্গোপসাগর থেকে মালাক্কা প্রণালীর দিকে যাওয়া সামুদ্রিক যাতায়াতের উপর নজরদারি বাড়াতে সাহায্য করবে। এটি বিশ্ব বাণিজ্যের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পথ, যেখানে চীনের তৎপরতা ক্রমশ বাড়ছে।
নতুন ঘাঁটি আন্দামান-নিকোবার কমান্ডের সঙ্গে সমন্বয় বাড়াতে সাহায্য করবে এবং পূর্ব সামুদ্রিক ফ্রন্টে ভারতের প্রতিক্রিয়া ক্ষমতা আরও দ্রুত করবে। যে কোনও জরুরি পরিস্থিতিতে এই ঘাঁটি ফরোয়ার্ড ডিপ্লয়মেন্টের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে। INS চিলকা-সহ পূর্ব উপকূলের অন্যান্য ঘাঁটিও এর ফলে আরও শক্তিশালী হবে। এতে পূর্ব সামুদ্রিক ফ্রন্টে ভারতের নিয়ন্ত্রণ আরও দৃঢ় হবে।
এই ঘাঁটি শুধু সামরিক উদ্দেশ্যেই নয়, বরং দুর্যোগ মোকাবিলা, ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার সময় ত্রাণ ও উদ্ধার কাজ, এবং নন-কমব্যাট্যান্ট ইভাকুয়েশন অপারেশনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে—যা বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে প্রায়ই প্রয়োজন হয়ে দাঁড়ায়।
নতুন নৌঘাঁটির ফলে কর্মসংস্থান, লজিস্টিকস ও রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত কাজের সুযোগ বাড়বে। তবে হুগলি নদী ও আশপাশের পরিবেশ রক্ষার বিষয়েও সতর্কতা অবলম্বনের কথা বলা হয়েছে।
বঙ্গোপসাগরে পরিবর্তিত চীন-পাকিস্তান-বাংলাদেশ সামুদ্রিক সমীকরণের মধ্যে ভারত তার সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে কোনও আপস করতে চায় না। হলদিয়ায় নতুন নৌঘাঁটি স্থাপনের মাধ্যমে ভারতের স্পষ্ট বার্তা বঙ্গোপসাগরে কোনও বাহ্যিক চাপের জবাব দিতে দেশ সম্পূর্ণ প্রস্তুত। এই পদক্ষেপ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি ভারতের সামুদ্রিক সার্বভৌমত্বকে আরও শক্তিশালী করবে।
.jpg)
No comments:
Post a Comment