হাদি হত্যাকাণ্ডে সরকারি ষড়যন্ত্রের অভিযোগ, পুলিশের চার্জশিটকে মিথ্যা বলল ইঙ্কলাব মঞ্চ - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Wednesday, January 7, 2026

হাদি হত্যাকাণ্ডে সরকারি ষড়যন্ত্রের অভিযোগ, পুলিশের চার্জশিটকে মিথ্যা বলল ইঙ্কলাব মঞ্চ



প্রেসকার্ড নিউজ ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭:০৫:০১ : বাংলাদেশে ইঙ্কলাব মঞ্চ তাদের নেতা শরীফ উসমান হাদির খুন মামলায় পুলিশের দাখিল করা চার্জশিট প্রত্যাখ্যান করেছে। মঞ্চের অভিযোগ, এই হত্যাকাণ্ডে সরকারি মেশিনারিও জড়িত। দলটি সতর্ক করে বলেছে, ন্যায়বিচার না মিললে যারা রক্ত ঝরিয়েছে, তাদের রক্তের জবাব রক্ত দিয়েই দিতে বাধ্য হতে পারে জনগণ।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) মঙ্গলবার এই হত্যাকাণ্ডে মূল অভিযুক্ত ফয়সল করিম মাসুদসহ মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে। পুলিশের দাবী, আওয়ামী লীগ–সমর্থিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পীর নির্দেশেই হাদিকে খুন করা হয়। এটি ছিল রাজনৈতিক প্রতিশোধ।

ইঙ্কলাব মঞ্চের সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, “কোনও পাগলই বিশ্বাস করবে যে শুধু একজন ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কথায় হাদিকে খুন করা হয়েছে। আমাদের দল পুলিশের এই চার্জশিট মানে না।” তিনি দাবী করেন, এই হত্যাকাণ্ডে পুরো অপরাধী চক্রের পাশাপাশি সরকারি মেশিনারিও জড়িত। দোষীদের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত তাদের লড়াই চলবে বলে জানান জাবের।

তিনি আরও বলেন, ন্যায়বিচারের দাবীতে তাদের দল শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করেছে, কিন্তু চার্জশিট থেকেই স্পষ্ট যে সরকার জনমানসকে উপেক্ষা করেছে এবং মানুষকে বোকা বানানোর চেষ্টা করেছে। জাবের সতর্ক করে বলেন, হাদি হত্যাকাণ্ডে ন্যায়বিচার না মিললে এবং এই মামলায় ভারতীয় চাপ বন্ধ না হলে, মানুষ এর পরিণতি নিজের চোখেই দেখবে।

ইঙ্কলাব মঞ্চের মুখপাত্র হাদি জুলাই-আগস্ট ২০২৪-এর আন্দোলনের সময় ব্যাপক আলোচনায় আসেন। এই আন্দোলনের ফলেই শেখ হাসিনার সরকারের পতন হয়। ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় নির্বাচনী প্রচারের সময় মাথায় গুলি করে হাদিকে খুন করা হয়। তিনি ১২ ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সংসদীয় নির্বাচনের প্রার্থীও ছিলেন। চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়, কিন্তু ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।

মঙ্গলবার ঢাকায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে পুলিশের ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্ত মাসুদ আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিল। তার দাবী, বাপ্পীর নির্দেশেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটে এবং বাপ্পী মাসুদ ও আরেক অভিযুক্ত আলমগীর শেখকে পালাতে সাহায্য করে। বাপ্পী আগে পল্লবী থানা ছাত্রলীগের সভাপতিও ছিল। গত বছর মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগ ও তাদের ছাত্র সংগঠনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

হাদি খুনের পর বাংলাদেশে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়েছে এবং ভারতের সঙ্গে সম্পর্কেও টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে। কিছু গোষ্ঠী এই হত্যাকাণ্ডে ভারতের হাত থাকার অভিযোগ তুলেছে। ভারত এসব অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করে একে অপপ্রচার বলে দাবী করেছে।

ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল গত মাসে নয়াদিল্লীতে বলেন, বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সে দেশের সরকারের দায়িত্ব এবং এই বিষয়টিকে ভুল পথে ঘোরানো সম্পূর্ণ অনুচিত। ভারত আরও জানায়, তারা বাংলাদেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা চায় এবং হাদি খুনের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত।

এর আগে, ২৮ ডিসেম্বর ঢাকা পুলিশ দাবী করেছিল যে অভিযুক্ত মাসুদ ও শেখ স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারতের মেঘালয়ে পালিয়ে গেছে। তবে মেঘালয়ের নিরাপত্তা সংস্থাগুলি এই দাবী ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে।

মেঘালয়ে বিএসএফের আইজি ওপি উপাধ্যায় বলেন, ওই এলাকা দিয়ে কেউ আন্তর্জাতিক সীমান্ত পার হয়েছে এমন কোনও প্রমাণ নেই। মেঘালয় পুলিশও জানিয়েছে, অভিযুক্তদের উপস্থিতি সম্পর্কে তাদের কাছে কোনও নিশ্চিত তথ্য নেই।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad