লাইফস্টাইল ডেস্ক, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬: দেশে আবারও নিপা ভাইরাস নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে নিপা ভাইরাসের দুটি সন্দেহভাজন রোগীর হদিশ পাওয়া গেছে। গুরুতর পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে, কেন্দ্রীয় সরকার পদক্ষেপ করেছে। নিপা ভাইরাসকে বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক জুনোটিক ভাইরাসগুলির মধ্যে একটি হিসাবে বিবেচনা করা হয়। এর কারণ এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং এর মৃত্যুর হারও খুব বেশি বলে মনে করা হয়। কী এই নিপা ভাইরাস? এর লক্ষণ এবং প্রতিরোধের জন্য কী করা উচিৎ? আসুন জেনে নিই এই বিষয়ে -
নিপা ভাইরাস কী?
ডব্লিউএইচও-এর মতে, নিপা ভাইরাস একটি বিপজ্জনক রোগ, যা প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এটি প্রথম মালয়েশিয়ায় ১৯৯৯ সালে শনাক্ত করা হয়েছিল। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশে এটি এখনও উদ্বেগের কারণ। ফল খাওয়া বাদুড়কে এই ভাইরাসের প্রধান উৎস বলে মনে করা হয়।
নিপা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার কারণ-
দূষিত খাবার
নিপা ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বাদুড়ের কামড়ে দূষিত ফল (যেমন খেজুর এবং আম) খাওয়ার মাধ্যমে এবং সংক্রামিত বাদুড় বা শূকরের লালা বা প্রস্রাব দিয়ে দূষিত তারি (খেজুরের রস) পান করার মাধ্যমে।
প্রাণীদের সাথে যোগাযোগ
সংক্রামিত বাদুড় বা শূকরের শরীরের তরল, যেমন লালা, প্রস্রাব বা রক্তের সাথে সরাসরি যোগাযোগ নিপা ভাইরাস সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকি তৈরি করে।
মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণ
সংক্রমিত ব্যক্তির শরীরের তরল পদার্থ, যেমন লালা, প্রস্রাব বা রক্তের সংস্পর্শেও নিপা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
নিপা ভাইরাসের লক্ষণ-
প্রচণ্ড জ্বর এবং মাথাব্যথা
মাংসপেশীতে ব্যথা
কাশি এবং গলা ব্যথা
শ্বাসকষ্ট
মানসিক বিভ্রান্তি বা চেতনা হারানো
মস্তিষ্ক ফুলে যাওয়া
নিপা ভাইরাস প্রতিরোধের উপায়
নিপা ভাইরাস এড়াতে চাইলে প্রথমেই কাটা বা পড়ে থাকা ফল খাওয়া এড়িয়ে চলুন। বাদুড় এবং সাপের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন, হাতের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন এবং আক্রান্ত রোগীদের যত্ন নেওয়ার সময় ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) ব্যবহার করুন। নিপা ভাইরাস বিপজ্জনক হলেও, এর কোনও প্রতিকার নেই, তাই প্রাথমিকভাবে সনাক্তকরণ এবং প্রতিরোধই সর্বোত্তম বিকল্প।

No comments:
Post a Comment