প্রেসকার্ড নিউজ বিনোদন ডেস্ক, ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:০০:০১ : ভারতীয় সংস্কৃতিতে বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য সাধারণত তাঁদের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করা হয়। কিন্তু আপনি কি জানেন, পা ছুঁতে নিচু হয়ে ঝোঁকা শুধু শিষ্টাচার বা রীতিমাত্র নয়, বরং এটি শ্রদ্ধা ও বিজ্ঞানের গভীর সম্পর্ককেও প্রকাশ করে—যা আমাদের পূর্বপুরুষরা বহু শতাব্দী আগেই বুঝে গিয়েছিলেন। প্রাচীন বিশ্বাস থেকে আধুনিক বিজ্ঞান পর্যন্ত, পা ছোঁয়ার এই ক্রিয়াকে এক ধরনের ‘এনার্জি সার্কিট’ সম্পূর্ণ হওয়ার সঙ্গে তুলনা করা হয়। খুব কম মানুষই জানেন, দেখতে সাধারণ এই ভঙ্গিটি মানুষের শরীরের শক্তিচক্র ও মানসিক স্বাস্থ্যের উপরও সরাসরি প্রভাব ফেলে।
Fortis Hospital-এর অর্থোপেডিক চিকিৎসক Subhash Jangid বলেন, সামনে দিকে ঝুঁকে প্রণাম করার এই ভঙ্গি—যাকে সাধারণত নত হয়ে প্রণাম বা নমন বলা হয়—শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক, আধ্যাত্মিক ও ব্যায়ামচর্চার ধারায় অনুসৃত হয়ে আসছে। চিকিৎসাবিদ্যা ও শারীরবৃত্তীয় (ফিজিওলজিক্যাল) দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, সঠিকভাবে ও অতিরিক্ত জোর না দিয়ে এই ভঙ্গি করলে স্বাস্থ্যের বহু উপকার পাওয়া যায়।
মেরুদণ্ডের সুস্থতা
পা ছোঁয়ার সময় সামনে দিকে ঝোঁকার অন্যতম বড় উপকার মেরুদণ্ডের স্বাস্থ্যের সঙ্গে যুক্ত। হালকা ভাবে সামনে ঝুঁকলেই মেরুদণ্ডের পাশাপাশি নীচের পিঠ ও হ্যামস্ট্রিং পেশিতে টান পড়ে। এতে জড়তা কমে এবং নমনীয়তা বাড়ে। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা বা ভুল ভঙ্গির কারণে হওয়া হালকা কোমর ব্যথাতেও এতে আরাম মেলে। নিয়মিত অভ্যাসে মেরুদণ্ডের সঠিক অবস্থান ও চলাচল ক্ষমতা উন্নত হয়।
রক্ত সঞ্চালন উন্নত হয়
এই ভঙ্গি রক্ত সঞ্চালনও ভালো করে। শরীরের উপরের অংশ হৃদয়ের স্তরের কাছাকাছি এলে মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ সাময়িকভাবে বেড়ে যায়। এর ফলে মস্তিষ্কে অক্সিজেনের যোগান ভালো হয়, যা একাগ্রতা, মানসিক স্বচ্ছতা ও সতেজতার অনুভূতি দিতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে ক্লান্তি কমে যাওয়া ও সতর্কতা বাড়ার অভিজ্ঞতাও হয়।
হজমশক্তি বাড়াতে সহায়ক
হজমের দিক থেকেও সামনে ঝোঁকার ভঙ্গি উপকারী। এই সময় পেটের অঙ্গগুলোর উপর হালকা চাপ পড়ে, ফলে পাকস্থলী ও অন্ত্রের কার্যকলাপ সক্রিয় হয়। এতে হজম প্রক্রিয়া উন্নত হয়, মলত্যাগ নিয়মিত হতে সাহায্য করে এবং গ্যাস বা কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যায় আরাম পেতে সহায়তা করে। তাই যোগ ও চিকিৎসাবিষয়ক ব্যায়ামে এই ধরনের ভঙ্গি অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে
ঝোঁকার ভঙ্গি স্নায়ুতন্ত্রের উপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। এটি প্যারাসিম্প্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেমকে সক্রিয় করে, যা শরীরকে বিশ্রাম ও পুনরুদ্ধারের অবস্থায় নিয়ে যায়। এর ফলে হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপে হালকা হ্রাস হতে পারে, যা মানসিক শান্তি ও আবেগগত ভারসাম্য বাড়ায়। স্ট্রেস, উদ্বেগ বা মানসিক চাপে ভোগা মানুষের জন্য এই ভঙ্গি বিশেষ উপকারী।
জয়েন্ট ও পেশির সুস্থতা
সঠিকভাবে করলে এই ভঙ্গি জয়েন্ট ও পেশির স্বাস্থ্যের জন্যও ভালো। এতে নিতম্ব, হাঁটু ও গোড়ালিতে টান পড়ে এবং শরীরের ভারসাম্য রক্ষাকারী পেশিগুলো শক্তিশালী হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি ভারসাম্য, সঠিক বডি পোষচার ও দৈনন্দিন কাজে চলাফেরার ক্ষমতা বাড়ায়।
পরামর্শ
সামনে ঝোঁকার ভঙ্গি নিরাপদভাবে করা অত্যন্ত জরুরি। যাঁদের মেরুদণ্ডে আঘাত, তীব্র কোমর ব্যথা, মাথা ঘোরা বা বিশেষ কোনও শারীরিক সমস্যা রয়েছে, তাঁদের এই ভঙ্গি করার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সঠিক ও কোমলভাবে পা ছোঁয়ার জন্য ঝোঁকা একটি সহজ কিন্তু অত্যন্ত কার্যকর অভ্যাস, যা শারীরিক সুস্থতা ও মানসিক শান্তি বাড়াতে সাহায্য করে।

No comments:
Post a Comment