উত্তর ২৪ পরগনা, ০৮ জানুয়ারি ২০২৬: এসআরআই আতঙ্কে মৃত্যু মিছিল অব্যাহত। এবার শুনানিতে এসে আতঙ্কে মায়ের সামনেই মৃত্যু হল এক যুবকের। ঘটনা উত্তর ২৪ পরগনা জেলার মধ্যমগ্রামের রোহোন্ডা চন্ডিগড় গ্রাম পঞ্চায়েতের চন্ডিগড় গ্রামের। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত যুবকের নাম রমজান আলী, বয়স ৩৮ বছর। বৃহস্পতিবার বেলা বারোটা নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছে বারাসত দু'নম্বর ব্লকের বিডিও অফিসে।
রমজানের বাড়ি মধ্যমগ্রামের রোহোন্ডা চন্ডিগড় গ্রাম পঞ্চায়েতের চন্ডিগড় গ্রামে। তার দুই ছেলে। বেশ কয়েক বছর ধরে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে সপরিবারে রাজস্থানের জয়পুরে থাকতেন। এসআইআর-এর জন্য বাড়িতে ফিরে আসে রমজান।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোটার তালিকায় রমজানের বয়স তাঁর মায়ের থেকেও বেশি আছে। এ নিয়ে আতঙ্কে ছিলেন রমজান। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে বারোটা নাগাদ তাঁর শুনানি ছিল। মাকে সঙ্গে নিয়ে বাসে করেই বিডিও অফিসে যায় রমজান। বাস থেকে নেমে শুনানির লাইনে দাঁড়ায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আচমকা বুকে ব্যথা শুরু হয় রমজানের। বুকে হাত চেপে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। খবর যায় বিডিওর কাছে। বিডিও শেখর সাই তাঁর গাড়িতে করে রমজানকে স্থানীয় বাগবান্দা সাইবেরিয়া স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যায়। সেখানেই চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। রমজানের মৃত্যুর খবর পৌঁছতেই শোকের ছায়া নেমে আসে গ্রামে। রমজান তৃণমূল সমর্থক ছিল বলে দাবী করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব।
এসআইআরে তাঁদের সমর্থকের মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ। এর পাশাপাশি বারাসত দু নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মনোয়ারা বিবি, বারাসত দু নম্বর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি তথা দাদপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মনিরুল ইসলাম, কর্মাধ্যক্ষ আশের আলি মল্লিক, রোহিঙ্গা চন্ডিগড় গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মাসুমা খাতুন সহ অন্যান্যরাও ঘটনাস্থলে যান। মৃত রমজান আলীর মায়ের সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী।
পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে মন্ত্রী রথীন ঘোষ বলেন, 'সান্ত্বনা দেওয়ার কোনও ভাষা নেই। শুনানির নামে হয়রানি হচ্ছে সাধারণ মানুষ। সুস্থ শরীরে রমজান শুনানিতে গেছে। সেখানে গিয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছে। চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগটুকুও পর্যন্ত সে পায়নি। কত মানুষের প্রাণের বিনিময়ে এই ব্যবস্থা শেষ হবে তা আমরা জানি না।'

No comments:
Post a Comment