বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Wednesday, January 28, 2026

বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের


ন্যাশনাল ডেস্ক, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬: বারামতিতে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা। অবতরণের সময় বিধ্বস্ত বিমান। এই বিমানে ছিলেন মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার। তাঁর সাথে বিমানে আরও পাঁচজন ছিলেন। বিমান দুর্ঘটনায় সকলের মৃত্যু হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বুধবার সকালে মহারাষ্ট্রের বারামতিতে অবতরণের সময় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনাটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে বিমানটি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে যায়, সর্বত্র ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। প্রশাসন বা সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ জারি করা হয়নি। তবে সংবাদ সংস্থা পিটিআই এই খবর জানিয়েছে, মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের এই বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

একাধিক সংবাদমাধ্যম সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ এবং জরুরি দল ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। অ্যাম্বুলেন্স এবং দমকল বাহিনীকেও সতর্ক রাখা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে, এলাকাটি ঘিরে রাখা হয়েছিল এবং আরও কোনও বিশৃঙ্খলা এড়াতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছিল। আধিকারিকরা জানিয়েছেন যে তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করছেন।



জানা গেছে, অজিত পাওয়ারের বারামতিতে জেলা পরিষদ নির্বাচন সম্পর্কিত একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। এই উপলক্ষে তিনি সেখানে পৌঁছাবেন বলে গুঞ্জন ছিল। কিছু প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে বিমানটিতে মোট ছয়জন ছিলেন, তবে যাত্রীদের আনুষ্ঠানিক তালিকা এখনও প্রকাশ করা হয়নি।



এদিকে দুর্ঘটনার খবরের সাথে সাথে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন তথ্য এবং দাবী দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। প্রশাসন জনগণকে গুজবে বিশ্বাস না করার এবং কেবল সরকারি তথ্যের জন্য অপেক্ষা করার জন্য অনুরোধ করছে।


অজিত পাওয়ার মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। কয়েক দশক ধরে ক্ষমতা এবং সংগঠন উভয়ের ওপরই দৃঢ় দখল বজায় রেখেছেন। তিনি জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টি (এনসিপি) প্রধান শরদ পাওয়ারের ভাইপো ছিলেন। অজিত পাওয়ার ১৯৮২ সালে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন এবং দ্রুত মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে তাঁর উপস্থিতি প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর কাকা শরদ পাওয়ারের সাথে তিনি কংগ্রেস দল এবং পরে এর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে তৈরি এনসিপিকে মজবুত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।


১৯৯৩ সালে শরদ পাওয়ার যখন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী হন, তখন অজিত পাওয়ারও মন্ত্রিসভায় স্থান পান। এর পরেও তিনি ক্ষমতা ও সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে থাকেন। ২০১০ সালে কংগ্রেস-এনসিপি জোট সরকারে মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী নিযুক্ত হওয়ার পর অজিত পাওয়ারের রাজনৈতিক মর্যাদা আরও বৃদ্ধি পায়। এই সময়কালে, তিনি রাজ্য রাজনীতিতে সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতাদের একজন হয়ে ওঠেন। রাজনীতির পাশাপাশি, অজিত পাওয়ারের সমবায় ক্ষেত্রেও জোরালো প্রভাব রয়েছে। তিনি মহারাষ্ট্রের সমবায় চিনি কারখানার সাথে জড়িত ছিলেন এবং পুনে জেলা সমবায় ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।


অজিত পাওয়ার আবারও ২০২৩ সালের জুলাই থেকে মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই ভূমিকায় তিনি আবারও রাজ্যের রাজনীতিতে তাঁর নির্ণায়ক উপস্থিতি প্রতিষ্ঠা করেন। চার দশকেরও বেশি রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার অধিকারী অজিত পাওয়ারকে মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে একজন দক্ষ কৌশলবিদ এবং একজন শক্তিশালী প্রশাসক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad