জাতীয় পুরস্কার পেয়েও কেন বাংলা ছবিতে ‘ব্যান’ করা হল অভিনেতাকে? মুখ খুললেন স্বয়ং ঋদ্ধি সেন - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Saturday, January 17, 2026

জাতীয় পুরস্কার পেয়েও কেন বাংলা ছবিতে ‘ব্যান’ করা হল অভিনেতাকে? মুখ খুললেন স্বয়ং ঋদ্ধি সেন

 


প্রেসকার্ড নিউজ বিনোদন ডেস্ক, ১৭ জানুয়ারি : বর্তমানে  রাজনীতির  চক্করে বাংলা ইন্ডাস্ট্রির অনেক প্রতিভা হারিয়ে যাচ্ছে। বারবার সেই প্রমাণও পাওয়া যায়। যেমন বাংলা ছবিতে কাজ করতে পারছেন না অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্য। ফেডারেশনের সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে  আইনি লড়াই লড়েছিলেন অভিনেতা। অভিনেতা এখনও কাজে ফেরেনি কারণ তিনি ক্ষমা চাইতে রাজী নন।


এবার কি বাংলা ইন্ডাস্ট্রি ব্যান করল অভিনেতা ঋদ্ধি সেনকে! চারিদিকে খবর ছড়িয়ে পড়েছে টলিপাড়ায়। জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতাকে আচমকাই কেন বাতিল ঘোষণা করা হল। শোনা যাচ্ছে, ঝামেলার সূত্রপাত  পরিচালক সুমন ঘোষের একটা ছবি নিয়ে। যেখানে অভিনয় করার কথা ছিল ঋদ্ধির। তবে টেকনিশিয়ানরা নাকি অভিনেতার সাথে কাজ করতে নরাজ। আর তার জন্যই নাকি শুটিং বন্ধ । তবে এখনও ফেডারেশনের তরফ থেকে কিছু ঘোষণা হয়নি।


১৬ নভেম্বর ঋদ্ধি ফেসবুকে লিখেছেন, “দারুণ  লাগছে, শিল্প, সংস্কৃতি, স্বতন্ত্রতা, সততা, প্রতিবাদ বা এই ধরনের শব্দগুলো বেশ কয়েকবছর হলো বাংলার শিল্পীদের কাছ থেকে কেনা বিভিন্ন রাজনৌতিক দলের পার্সোনাল প্রপার্টি। বাংলা চলচ্চিত্র,সংগীত,শিল্পী, নাট্য,সাহিত্য,সংস্কৃতি জগতের একটা গোটা প্রজন্মের অধিকাংশ ব্যক্তি তাদের পরবর্তী প্রজন্মকে কাজের বদলে শেখাতে পেরেছে সুবিধাবাদ, একটা গোটা নতুন প্রজন্মের সামনে জ্বল জ্বল করছে তাদের পূর্ব প্রজন্মের লোভ, যারা আর কাজ করতে পারে না, পারে না ‘নতুনের’ দিকে হাত বাড়াতে, ‘হ্যাঁ’ বলার রাজনীতিতে পারে না ‘না’ বলতে, পারে শুধু সুবিধা ভোগ করতে,পাল্টি খেতে,সুস্থ কাজের পরিস্থিতির শ্মশানযাত্রা সাজাতে,নিজেদের শরীরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা লোভ নামের জীবাণুর মহামারী ছড়াতে। খুব মজা লাগছে, চাকরি চুরি যাওয়া পরিবারদের বাড়িতে যখন ভাতের হাঁড়ি চড়ছিল না তখন বাংলা চলচ্চিত্র জগতের অধিকাংশ ব্যক্তিত্বরা মৌনতার হাঁড়ি চড়াতে ব্যস্ত ছিলেন,কিন্তু নিজেদের ডেকে আনা বিপদ থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য তারাই এখন সমাজমাধ্যমে তাদের এবং তাদের কাজের সাথে যুক্ত থাকা কর্মীদের বাড়িতে ভাতের হাঁড়ি চড়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করতে ব্যস্ত।  তারা আশা করছেন সমাজ মাধ্যমে হঠাৎ পাতা সেন্টিমেন্টের দানপাত্রে বা হাঁড়িতে জনগণ তাদের দু মুঠো সহানুভূতির চাল দেবে। ভালো,এমন আশা করা ভালো, আশা না করলে আশা ভাঙে না,তাই আশা করা জরুরি।  যে রাজনৈতিক দল চাকরি চুরি করে তারাই আবার সিনে টেকনিশিয়ানদের চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে গলা ফাটায়,যারা ঠিক এক বছর আগে মিডিয়ার সামনে প্রতিবাদী সাজার অভিনয় করে তারা সকলে স্বার্থের লোভে আবার জনসমক্ষেই নিজেদের বলা কথার বিরোধিতা করে l ওই যুদ্ধে যারা বন্দুকের ব্যবসা করে তারাই ব্যান্ডেজ সাপ্লাই করে।


“ভালো, সবটাই যেহেতু জনসমক্ষে ঘটে চলেছে,সব কিছুই সবার মনে থাকবে।  খারাপ লাগে,একটা গোটা কর্মক্ষেত্র ভালো কাজের উদাহরণ রাখার বদলে নিজেদের লোভের উদাহরণ রাখাকে প্রাধান্য দিয়ে চলেছে। বাংলা চলচ্চিত্র জগৎ সিনেমায় না পারলেও শ্রেষ্ঠ বিনোদনটা দিতে পারে নিজেদের স্বার্থপর এবং ভীরু চেহারাটা সকলের সামনে প্রকাশ করে দিয়ে, এটাই ট্রাজেডি, এটাই কমেডি,এভাবে বিনামূল্যে বিনোদন পেলে দর্শক আর প্রেক্ষাগৃহে মূল্য দিয়ে বিনোদন খুঁজতে যাবে না। ওয়েলকাম টু টলিউড, সরি,তৃণউড।”


অভিনেতার এই পোস্টের পর জল আরও ঘোলা হয়।  এমনকি শোনা যাচ্ছে, ঋদ্ধিকে নাকি ফেডারেশনের তরফে ক্ষমা চেয়ে একটা চিঠি দিতে বলা বলা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে ঋদ্ধি জানালেন, ”আমি ক্ষমা চাওয়ার মতো কোনও কাজ করেছি বলে মনে করি না। আমি আমার মত প্রকাশ করেছি ফেসবুকে। সেটা মৌলিক অধিকারের মধ্যে পড়ে। তাই ক্ষমা চাওয়ার কথা ভাবছি না। তাতে বাংলা ছবিতে অভিনয় করতে পারলে করব, না করতে পারলে করব না।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad