প্রেসকার্ড নিউজ বিনোদন ডেস্ক, ০১ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:০০:০১ : আজকাল বাজারে পাওয়া প্যাকেট দুধ কতটা বিশুদ্ধ—এই প্রশ্ন অনেকের মনেই ঘোরাফেরা করে। অনেকেই জানেন না, প্যাকেটজাত দুধেও ভেজাল থাকতে পারে। পরিবারের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে তাই দুধ খাঁটি কি না, তা যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি।
বর্তমানে কিছু অসাধু সংস্থা দুধ দীর্ঘদিন ভালো রাখার জন্য কিংবা ঘন দেখানোর উদ্দেশ্যে ক্ষতিকর রাসায়নিক মেশায়। এর ফলে দুধ দেখতে ভালো হলেও স্বাস্থ্যের পক্ষে তা মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে।
দুধে কী কী ভেজাল মেশানো হয়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, দুধ নষ্ট হওয়া আটকাতে অনেক সময় ফরমালিন মেশানো হয়, যা সাধারণত মৃতদেহ সংরক্ষণে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া দুধ ঘন দেখাতে ইউরিয়া, স্টার্চ, সাবান পাউডার ইত্যাদিও ব্যবহার করা হয়। এসব রাসায়নিক লিভার ও কিডনির উপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।
ঘরোয়া উপায়ে দুধ খাঁটি কি না বুঝবেন যেভাবে
১. স্বাদ ও গন্ধ পরীক্ষা
খাঁটি দুধের স্বাদ হালকা মিষ্টি হয়। দুধে যদি তিতা স্বাদ বা সাবানের মতো গন্ধ আসে, তবে সেটি ভেজাল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
২. ফুটিয়ে দেখুন
খাঁটি দুধ ফুটলে রঙ সাদা থাকে। কিন্তু ভেজাল দুধ ফুটলে অনেক সময় হালকা হলুদ রঙ ধারণ করে।
৩. স্টার্চ টেস্ট
এক চামচ দুধে ২ ফোঁটা আয়োডিন দিন। দুধ যদি নীল বা গাঢ় রঙের হয়ে যায়, তাহলে বুঝবেন তাতে স্টার্চ মেশানো হয়েছে।
৪. ফেনা পরীক্ষা
একটি বোতলে দুধ নিয়ে ভালো করে ঝাঁকান। যদি অস্বাভাবিকভাবে বেশি ফেনা ওঠে, তাহলে দুধে সাবান মেশানোর আশঙ্কা রয়েছে।
ভেজাল দুধের ক্ষতিকর দিক
ভেজাল দুধ শিশুদের শারীরিক বৃদ্ধি ব্যাহত করতে পারে। পাশাপাশি পেট ব্যথা, বমি, ডায়রিয়া এমনকি দীর্ঘদিন খেলে ক্যানসারের মতো মারাত্মক রোগের ঝুঁকিও বাড়ে।
কী করণীয়?
সবচেয়ে ভালো হয় বিশ্বাসযোগ্য দুধ কেন্দ্র বা সরকার অনুমোদিত নামী ব্র্যান্ডের দুধ ব্যবহার করা। পাশাপাশি নিয়মিত ঘরোয়া পরীক্ষার মাধ্যমে দুধের মান যাচাই করলে নিজের ও পরিবারের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।

No comments:
Post a Comment