ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ০৬ জানুয়ারি ২০২৬: ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলার মাত্র কয়েক ঘন্টা পরেই রাজধানী কারাকাসে আবারও বিস্ফোরণের শব্দে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। বেশ কয়েকটি প্রতিবেদনে দাবী করা হয়েছে যে, সোমবার গভীর রাতে (স্থানীয় সময়) ভেনেজুয়েলার কারাকাসে রাষ্ট্রপতি ভবনৈ হামলা করা হয়েছে। এই ঘটনার সাথে সম্পর্কিত বেশ কয়েকটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে যেখানে রাষ্ট্রপতি ভবনের কাছে প্রচণ্ড গুলিবর্ষণ দেখা যাচ্ছে। কিছু এলাকা বিদ্যুৎবিহীন ছিল। যদিও সরকারিভাবে ঘটনাস্থল সম্পর্কে কোনও তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
হঠাৎ এই হামলার ঘটনার পর বিশ্বব্যাপী নজর রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে। তবে, হোয়াইট হাউস দ্রুত একটি বিবৃতি জারি করে জানিয়েছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এতে জড়িত নয়। উল্লেখ্য, মাদুরো বর্তমানে নিউ ইয়র্কে বন্দি, অন্যদিকে ভেনেজুয়েলায় ডেলসি রদ্রিগেজ অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন।
জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম সূত্রের বরাত দিয়ে বলছে, কারাকাসের মিরাফ্লোরেস প্যালেসের ওপরে অজ্ঞাত ড্রোন দেখা গেছে। রাত প্রায় ৮টার দিকে নিরাপত্তা বাহিনী পাল্টা গুলি চালায়। গত শনিবার কারাকাসে মার্কিন হামলা এবং রাষ্ট্রপতি মাদুরোকে আটক করার কয়েক ঘন্টা পরেই এই হামলা দেশজুড়ে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। তবে সরকারের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে যে, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় সামনে আসা ভিডিওগুলিতে দেখা যাচ্ছে যে, কারাকাসের রাস্তাগুলি নিরাপত্তা বাহিনীতে পরিপূর্ণ।
প্রসঙ্গত, ভেনেজুয়েলায় নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেফতারের জন্য মার্কিন সামরিক অভিযান এবং এর ফলে সৃষ্ট সহিংসতার ফলে ব্যাপক প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষতি হয়েছে। সর্বশেষ আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন অনুসারে, এই পুরো ঘটনায় এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৮০ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে মূলত রাষ্ট্রপতি মাদুরোকে রক্ষা করার জন্য মোতায়েন করা প্রেসিডেন্সিয়াল গার্ডের সৈন্য এবং মার্কিন বিশেষ বাহিনীর পদক্ষেপের বিরোধিতাকারী ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনীর সৈন্যরা রয়েছেন। এ ছাড়া, কারাকাসে ভারী বোমাবর্ষণ এবং আবাসিক এলাকার কাছে গুলিবর্ষণের কারণে অনেক সাধারণ নাগরিক এবং কিছু শিশুও প্রাণ হারিয়েছে।

No comments:
Post a Comment