ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: ভারত ও আমেরিকার মধ্যে সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তির পর, দক্ষিণ এশিয়ায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিকাশ দেখা যাচ্ছে। ভারতের প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য চুক্তির দিকে পদক্ষেপ করছে। জানা যাচ্ছে, বাংলাদেশ ৯ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি গোপন বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করতে চলেছে। আর এই ঘটনাক্রম সেখানে সংসদীয় নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে। ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তির প্রায় এক সপ্তাহ পরে এই চুক্তির টাইমিং বাংলাদেশের শিল্পক্ষেত্র এবং নীতি বিশেষজ্ঞদের মধ্যে গুরুতর প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।
প্রস্তাবিত এই চুক্তি সম্পর্কে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হল এর পারদর্শীতা এবং সময়। বাংলাদেশি সংবামাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে হওয়া এই চুক্তির শর্তাবলী জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না এবং এর খসড়া সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে। বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক পত্রিকা প্রথম আলোর মতে, সরকারের মেয়াদের চূড়ান্ত পর্যায়ে এত বড় এবং সুদূরপ্রসারী চুক্তি স্বাক্ষর করা একটি অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করছে। যদি ৯ ফেব্রুয়ারি চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়, তবে এটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সমাপ্তি এবং ১৩তম সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের ঠিক আগের একটি সিদ্ধান্ত হবে।
শিল্পক্ষেত্রেও উদ্বেগ এজন্য বৃদ্ধি পেয়েছে যে, সম্প্রতি ভারত ও আমেরিকার মধ্যে মধ্যে হওয়া বাণিজ্য চুক্তির পর, ভারতের ওপর আরোপিত ৫০ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হয়েছে। মনে করা হচ্ছে যে, ভারত-মার্কিন চুক্তির বিস্তারিত তথ্য শীঘ্রই জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে। কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল নিজেই ইঙ্গিত দিয়েছেন, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির বিস্তারিত তথ্য আগামী চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে প্রকাশ করা হতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্র ১৮ শতাংশ শুল্ক বাস্তবায়নের জন্য একটি নির্বাহী আদেশও জারি করতে পারে। বিপরীতে, বাংলাদেশ-মার্কিন চুক্তির সম্পূর্ণ গোপনীয়তা উদ্বেগকে আরও গভীর করেছে।
বাংলাদেশের ব্যবসায়ী সংগঠনগুলির আশঙ্কা, এই চুক্তি বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে তৈরি পোশাক এবং রপ্তানিমুখী শিল্পের ওপর। বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সিনিয়র সহ-সভাপতি এনামুল হক খান এই চুক্তির সময়ের ওপর প্রশ্ন তুলে বলেছেন যে, এত বড় এবং দীর্ঘমেয়াদী বাণিজ্য চুক্তি নির্বাচন-পরবর্তী সরকারের স্বাক্ষর করা উচিৎ ছিল। তাঁর মতে, অস্থায়ী সরকারের এই ধরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া ভবিষ্যতের সরকার এবং শিল্প উভয়ের জন্যই অসুবিধা তৈরি করতে পারে।
সব মিলিয়ে, ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির পর বাংলাদেশের এই পদক্ষেপ আঞ্চলিক বাণিজ্য ভারসাম্যের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। তবে, যেভাবে এই চুক্তি নির্বাচনের ঠিক আগে এবং সকলকে না জানিয়ে করা হচ্ছে, তাতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উভয় স্তরেই অস্থিরতা বেড়েছে। এই সিক্রেট ডিলের শর্ত কী হয় এবং এর কতটা গভীর প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতি ও শিল্পের ওপর পড়ে তা আগামী দিনেই বোঝা যাবে।

No comments:
Post a Comment