প্রেসকার্ড নিউজ বিনোদন ডেস্ক, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:০০:০১ : পরীক্ষার সময় এলেই বাড়ির পরিবেশ যেন একেবারে বদলে যায়। বাচ্চাদের ঘরে বইয়ের স্তূপ, টেবিলে নোটের পাহাড়, আর বাবা-মায়ের উদ্বেগ—সব মিলিয়ে এক আলাদা আবহ তৈরি হয়। অনেক ছাত্র-ছাত্রী দিন-রাত পড়াশোনা করেও পরীক্ষার হলে বসে হঠাৎ সব ভুলে যায়। কারও পড়ায় মন বসে না, আবার কেউ পড়া মনে রাখতে পারে না। এমন সময় শুধু কঠোর পরিশ্রম নয়, মানসিক স্থিরতা ও আত্মবিশ্বাসও সমান জরুরি।
এই প্রেক্ষাপটে বহু পরিবারে আজও কিছু প্রাচীন জ্যোতিষীয় ও আধ্যাত্মিক উপায় অনুসরণ করা হয়। এগুলো কোনও অলৌকিক সমাধান নয়, বরং মনকে শান্ত ও একাগ্র করতে সহায়ক কিছু অভ্যাস হিসেবে ধরা হয়। আসুন, পরীক্ষায় সাফল্যের জন্য প্রচলিত কিছু উপায় সম্পর্কে জানি।
পড়াশোনা ও জ্যোতিষের সংযোগ কেন?
পড়াশোনা শুধু মুখস্থ করার বিষয় নয়—এটি মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি ও মানসিক ভারসাম্যের বিষয়। চাপ বা উদ্বেগ বেশি হলে পড়া মনে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। জ্যোতিষশাস্ত্রে গ্রহ-নক্ষত্রের সঙ্গে মানসিক অবস্থার সম্পর্কের কথা বলা হয়। তাই বুদ্ধি ও একাগ্রতার জন্য কিছু বিশেষ আচার-অনুশীলনের প্রচলন রয়েছে।
মনোবিজ্ঞানও বলে, নিয়মিত কোনও ইতিবাচক রিচুয়াল বা অভ্যাস মস্তিষ্ককে ‘ফোকাস মোড’-এ আনতে সাহায্য করে। সেই কারণেই অনেকেই পড়াশোনার আগে অল্প সময় প্রার্থনা বা ধ্যানকে মানসিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নেন।
গণেশ ও সরস্বতী মন্ত্র জপ
ভারতীয় সংস্কৃতিতে বিদ্যার দেবী হিসেবে দেবী সরস্বতী এবং বাধা অপসারণকারী হিসেবে ভগবান গণেশ-এর আরাধনার প্রথা রয়েছে।
পরীক্ষার দিনে বা প্রতিদিন পড়ার আগে স্নান করে পরিষ্কার পোশাক পরে একটি প্রদীপ জ্বালিয়ে স্বল্প সময় মন্ত্র জপ করলে মন স্থির হয়—এমনটাই বিশ্বাস করেন অনেকে।
চোখ বন্ধ করে ২–৩ মিনিট মন্ত্র উচ্চারণ করলে মনোযোগ বাড়ে এবং পড়ায় বসার একটি ইতিবাচক অভ্যাস তৈরি হয়।
পড়া শুরুর আগে ছোট মন্ত্র অনুশীলন
পড়তে বসার আগে কয়েক সেকেন্ড সময় নিয়ে “ওঁ গং গণপতয়ে নমঃ” ও “ওঁ ঐং সরস্বত্যৈ নমঃ” উচ্চারণ করা যেতে পারে। এটি মানসিকভাবে পড়াশোনার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করার একটি উপায়।
অনেক শিক্ষার্থী জানান, এই ছোট অভ্যাস তাদের উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করে এবং মনোযোগ ধরে রাখতে সহায়ক হয়।
বুধবারের বিশেষ অনুশীলন
জ্যোতিষ মতে বুধবারকে বুদ্ধি ও শিক্ষার দিন হিসেবে ধরা হয়। তাই এদিন গণেশের পূজা বা প্রসাদ দেওয়ার প্রথা আছে অনেক বাড়িতে। নিয়মিত এমন অনুশীলন শিশুদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।
মনোবিজ্ঞানের দৃষ্টিতেও, নিয়মিত ইতিবাচক অভ্যাস আত্মবিশ্বাস তৈরি করে, যা পরীক্ষার হলে কাজে লাগে।
গণেশ রুদ্রাক্ষ ধারণের প্রচলন
কিছু পরিবারে বুধবার গণেশ রুদ্রাক্ষ পরানোর প্রথা রয়েছে। এটি বুদ্ধি ও বিচক্ষণতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। যদিও এটি ধর্মীয় বিশ্বাসের বিষয়, অনেকের মতে এটি শিক্ষার্থীর মনে এক ধরনের মানসিক শক্তি ও ভরসা জোগায়—যেমন পরীক্ষায় প্রিয় কলম সঙ্গে রাখা।
পরিশ্রম ও বিশ্বাস—দুটোই জরুরি
একটি বিষয় পরিষ্কার—এই সব উপায় কখনও কঠোর পরিশ্রমের বিকল্প নয়। শিক্ষক ও পরামর্শদাতারা সবসময় বলেন, সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হল নিয়মিত পড়াশোনা, সঠিক পরিকল্পনা ও অনুশীলন। তবে মানসিক চাপের সময় ছোট ইতিবাচক অভ্যাস মনকে স্থির রাখতে সাহায্য করতে পারে।
পরীক্ষায় সাফল্যের মূল সূত্র তাই তিনটি প্রস্তুতি, আত্মবিশ্বাস ও শান্ত মন। আধ্যাত্মিক বা জ্যোতিষীয় অনুশীলন অনেকের কাছে সেই মানসিক শক্তি জোগানোর একটি উপায় মাত্র।

No comments:
Post a Comment