প্রেসকার্ড নিউজ বিনোদন ডেস্ক, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:০০:০১ : হিন্দু ধর্মে ব্রহ্ম মুহূর্তের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এই সময়টিকে অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। বিশ্বাস করা হয়, এই সময়ে ঈশ্বরের সাধনা, জপ, তপ ও ধ্যান করলে তা অত্যন্ত ফলপ্রদ হয়। তাই অনেকেই ভোরে উঠে এই সময়ে পূজা ও ধ্যান করেন।
‘ব্রহ্ম মুহূর্ত’ বলতে সাধারণত রাতের শেষ প্রহর বা সূর্যোদয়ের প্রায় দেড় ঘণ্টা আগে সময়কে বোঝায়—প্রায় ভোর ৪টা থেকে ৫টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত। শাস্ত্র মতে এই সময়ে ঘুমিয়ে থাকা অনুচিত। ‘ব্রহ্ম’ মানে পরমাত্মা বা সর্বোচ্চ শক্তি, আর ‘মুহূর্ত’ মানে শুভ সময়।
এই সময় পরিবেশ থাকে শান্ত, নির্মল ও সত্ত্বিক। চারপাশের শব্দ কম থাকায় মনও স্থির থাকে এবং নিজের ভিতরের ভাবনা সহজে উপলব্ধি করা যায়। অনেকেরই এই সময় স্বাভাবিকভাবেই ঘুম ভেঙে যায়—যা ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী বিশেষ একটি ইঙ্গিত বহন করে।
ঈশ্বরের সঙ্গে সংযোগের সময়
ব্রহ্ম মুহূর্তকে ঈশ্বরের সঙ্গে যোগ স্থাপনের সবচেয়ে উপযুক্ত সময় বলা হয়। এই সময়ে প্রার্থনা করলে তা সহজেই ঈশ্বরের কাছে পৌঁছায় বলে মনে করা হয়। তাই এই সময়ে জপ, ধ্যান বা পূজা করলে মানসিক শান্তি ও আধ্যাত্মিক শক্তি বাড়ে।
পূর্বজন্মের সুকর্মের ফল
ধারণা করা হয়, যদি কারও ঘুম নিয়মিতভাবে এই সময়ে নিজে থেকেই ভেঙে যায়, তবে তা পূর্বজন্মের সুকর্মের ফল হতে পারে। এটি জীবনে শুভ শক্তির উপস্থিতির ইঙ্গিত হিসেবেও ধরা হয়।
দেব-দেবীর আশীর্বাদ
অনেকের মতে, ব্রহ্ম মুহূর্তে স্বাভাবিকভাবে ঘুম ভাঙা দেব-দেবীর আশীর্বাদের লক্ষণ। এই সময়ে ঈশ্বরকে স্মরণ করা অত্যন্ত শুভ এবং জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
আত্মিক উন্নতির সংকেত
ধর্ম অনুযায়ী মানুষ শুধু দেহ নয়, তার একটি আত্মাও রয়েছে। তাই এই সময়ে জেগে ওঠা আত্মিক উন্নতির একটি চিহ্ন হতে পারে। বলা হয়, এই সময়ে স্নান, ধ্যান ও জপ করলে বুদ্ধি প্রখর হয় এবং নেতিবাচকতা দূর হয়।
কী করবেন?
যদি আপনার ঘুম এই সময়ে ভেঙে যায়, তাহলে প্রথমে বিছানায় বসে ঈশ্বরের নাম নিন বা “ওঁ” জপ করুন। এরপর নিজের ইষ্ট দেবতাকে প্রণাম করুন এবং প্রার্থনা করুন যেন আপনার দিনটি শুভ ও ইতিবাচকভাবে

No comments:
Post a Comment