প্রেসকার্ড নিউজ ন্যাশনাল ডেস্ক, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৫:২৫:০১ : লোকসভা স্পীকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার ঘোষণা করেছে বিরোধী শিবির। বিরোধীদের অভিযোগ, রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয়নি। সূত্রের খবর, সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী ২০ দিনের নোটিস প্রয়োজন হওয়ায় বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্বে এই অনাস্থা প্রস্তাব পেশ করা হবে।
এরই মধ্যে কংগ্রেসের সাংসদদের কাছ থেকে অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়েছে। সমাজবাদী পার্টি (এসপি) এবং ডিএমকে প্রস্তাবের পক্ষে রয়েছে। তবে তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি; দলটি তাদের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করে অবস্থান স্পষ্ট করবে। কংগ্রেসের ফ্লোর ম্যানেজাররা অন্যান্য বিরোধী দলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। কংগ্রেস জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় সংখ্যক সাংসদ তাদের হাতে রয়েছে এবং এক-দুটি দল সমর্থন না করলেও সংবিধানসম্মত সময়সীমা মেনে প্রস্তাব আনা হবে।
অনাস্থা প্রস্তাবের কারণ কী
বিরোধীদের অভিযোগ অনুযায়ী,
লোকসভায় বিরোধী দলনেতাকে বক্তব্য রাখার অনুমতি না দেওয়া
চেয়ারের তরফে মহিলা সাংসদদের নাম উল্লেখ করে মন্তব্য
ট্রেজারি বেঞ্চের কিছু সাংসদকে বারবার বিশেষ সুবিধা দেওয়া
আটজন বিরোধী সাংসদকে পুরো অধিবেশনের জন্য সাসপেন্ড করা
ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে সিদ্ধান্ত
সংসদ ভবন চত্বরে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের দপ্তরে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী-সহ জোটের একাধিক শীর্ষ নেতা উপস্থিত ছিলেন।
কংগ্রেস সাংসদ কে সি ভেণুগোপাল বলেন, “সংসদীয় নিয়মে বিরোধী দলনেতাকে ‘শ্যাডো প্রধানমন্ত্রী’ বলা হয়। অথচ এখানে তাঁকে কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না। সরকার ইচ্ছেমতো বক্তব্য রাখতে পারছে, কিন্তু বিরোধীদের জন্য কোনও জায়গা রাখা হচ্ছে না। এমন ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি।”
স্পীকারের উপর আস্থা নেই: কংগ্রেস
কংগ্রেস সাংসদ মল্লু রবি বলেন, স্পীকার যে পরিস্থিতি তৈরি করেছেন, তাতে বিরোধীদের কাছে অনাস্থা প্রস্তাব আনা ছাড়া আর কোনও রাস্তা নেই। তাঁর অভিযোগ, বিরোধীরা কথা বলতে চাইলে বারবার সংসদের কার্যক্রম স্থগিত করা হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “কোনও গণতান্ত্রিক দেশে কি বিরোধীদের কথা বলার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়?”
কংগ্রেস স্পীকারের উপর আস্থা প্রকাশ করেনি এবং আট সাংসদের সাসপেনশন প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। সম্প্রতি রাহুল গান্ধী ২০২০ সালে চিনের সঙ্গে সীমান্ত উত্তেজনা প্রসঙ্গে প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল এম এম নারাভানের একটি অপ্রকাশিত বইয়ের উল্লেখ করলে স্পীকার সেই প্রসঙ্গে আলোচনা করতে অনুমতি দেননি।
আট সাংসদের সাসপেনশন ঘিরে বিতর্ক
ঘটনাকে কেন্দ্র করে লোকসভায় তীব্র হট্টগোল হয় এবং শেষ পর্যন্ত অধিবেশন মুলতুবি রাখতে হয়। এর আগে, নিয়মভঙ্গ ও “চেয়ারের দিকে কাগজ ছোড়া”-র অভিযোগে আটজন বিরোধী সাংসদকে বাজেট অধিবেশনের বাকি সময়ের জন্য সাসপেন্ড করা হয়। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে কংগ্রেস সাংসদরা আজও সংসদের বাইরে বিক্ষোভ দেখান।
এদিকে, ৫ ফেব্রুয়ারি স্পীকার ওম বিড়লা জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে সংসদে না আসার পরামর্শ দিয়েছিলেন, যাতে কোনও “অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি” তৈরি না হয়। বিরোধীরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।

No comments:
Post a Comment