দেবভূমি উত্তরাখণ্ড-এর অনন্য মন্দির! দেবতার নয় পূজা হয় অস্থির - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Tuesday, February 24, 2026

দেবভূমি উত্তরাখণ্ড-এর অনন্য মন্দির! দেবতার নয় পূজা হয় অস্থির



প্রেসকার্ড নিউজ বিনোদন ডেস্ক, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:০০:০১ : উত্তরাখণ্ডকে দেবভূমি বলা হয়, যেখানে প্রতিটি পদক্ষেপে প্রকৃতি আর আস্থার অপূর্ব মেলবন্ধন দেখা যায়। কিন্তু রুদ্রপ্রয়াগ জেলা-তে অবস্থিত কার্তিক স্বামী মন্দির এই দেবভূমির এক অনন্য ঐতিহ্য। এখানে কোনও মূর্তি নয়, বরং ভগবান কার্তিকেয়-এর অস্থির পূজা করা হয়। এই মন্দির ত্যাগ, প্রেম আর সমর্পণের জীবন্ত প্রতীক।



মন্দিরে পৌঁছানোর পথ

কার্তিক স্বামী মন্দির রুদ্রপ্রয়াগ–পোখরি সড়কের কাছে কানকচৌরি গ্রামের নিকটে পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত। কানকচৌরি থেকে প্রায় ৩ কিমি খাড়া কিন্তু সহজ ট্রেকিং করতে হয়। পথে সবুজ বন, পাহাড়ি দৃশ্য আর শীতল হাওয়া যাত্রাকে করে তোলে দারুণ রোমাঞ্চকর। উপরে পৌঁছালে চারদিকের দৃশ্য স্বর্গের মতো লাগে। সারা বছর মন্দির খোলা থাকলেও শ্রাবণ মাস ও মহাশিবরাত্রিতে এখানে ভিড় সবচেয়ে বেশি হয়। শীতকালে তুষারপাতের সময় বিশেষ সতর্কতা জরুরি।



পৌরাণিক কাহিনি ও অস্থির পূজা

কার্তিক স্বামী মন্দিরের কাহিনি স্কন্দ পুরাণ এবং লোককথায় উল্লেখ আছে। বিশ্বাস করা হয়, গণেশ ও কার্তিকেয়ের মধ্যে পিতা শিব-কে কেন্দ্র করে পরিক্রমার প্রতিযোগিতা হয়েছিল। গণেশ বুদ্ধি দিয়ে সেই পরিক্রমা সম্পূর্ণ করেন, আর কার্তিকেয় পৃথিবী ঘুরে আসেন। পরাজয়ে ব্যথিত হয়ে কার্তিকেয় পাহাড়ে চলে যান এবং পিতা-মাতার প্রতি প্রেম ও ত্যাগের নিদর্শন হিসেবে নিজের শরীর ত্যাগ করেন। বলা হয়, তাঁর অস্থি এখানে প্রাকৃতিক শিলার রূপে প্রকাশিত হয়েছে। সেই কারণেই এখানে কোনও মূর্তি নেই, অস্থিশিলার পূজাই প্রধান।



মন্দিরের ইতিহাস ও সন্ধ্যার আরতি

এই মন্দিরের ইতিহাস প্রায় ২০০ বছরের পুরনো বলে ধরা হয়। মন্দিরটি ছোট হলেও আস্থায় ভরপুর। সন্ধ্যার আরতি এখানে বিশেষ আকর্ষণ—অসংখ্য ঘণ্টাধ্বনি পাহাড় জুড়ে প্রতিধ্বনিত হয় এবং পুরো পরিবেশ ভক্তিময় হয়ে ওঠে। ভক্তরা সেই আরতিতে গভীরভাবে নিমগ্ন হয়ে পড়েন।



ভক্তদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

দুর্গম পথ সত্ত্বেও এখানে ভক্তদের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। বিশ্বাস করা হয়, আন্তরিক ভক্তিভরে প্রার্থনা করলে মনোকামনা পূর্ণ হয়। যাত্রার সময় হালকা পোশাক, পানি ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সঙ্গে রাখা উচিত। মন্দিরে ফটোগ্রাফির উপর কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার আরতি মিস করবেন না—এটি এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা।



উত্তরাখণ্ডের এই মন্দির প্রকৃতি ও আস্থার এক অপূর্ব মিলনস্থল। আজও মানুষ এখানে এসে শেখে—সত্যিকারের প্রেম আর ভক্তি কখনও নষ্ট হয় না।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad