প্রেসকার্ড নিউজ ন্যাশনাল ডেস্ক, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২০:৫৮:০১ : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিছুদিন ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উপর যে শুল্ক নীতি চাপিয়ে আসছেন, তার উপর ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। গতকালের ঐতিহাসিক আদালতের রায়ের পর, ভারত সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এখন উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। মন্ত্রণালয় শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬) আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে যে তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দ্রুত পরিবর্তনশীল এই উন্নয়ন এবং ভারতের উপর এর অর্থনৈতিক প্রভাব নিবিড়ভাবে অধ্যয়ন করছে। আগামী দিনে বৈদেশিক বাণিজ্য এবং আমদানি-রপ্তানি মূল্যে বড় ধরনের পরিবর্তন প্রত্যাশিত।
এই পুরো বিতর্কের মূলে ছিল ১৯৭৭ সালের একটি পুরনো আইন, যার অধীনে রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প তার নিজস্ব বিবেচনার ভিত্তিতে বিভিন্ন দেশের উপর বিশাল শুল্ক আরোপ করছিলেন। তবে, মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট, ৬-৩ সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে, স্পষ্ট করে দিয়েছে যে রাষ্ট্রপতির এই আইনের অধীনে এই ধরনের স্বেচ্ছাচারী কর আরোপের ক্ষমতা নেই। আদালতের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে, রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প এমনকি কোনও প্রমাণ ছাড়াই একটি সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন যে আদালত "বিদেশী শক্তি" দ্বারা প্রভাবিত। তবে, আদালতের তিরস্কারের পরপরই, তিনি একটি নতুন পথ খুঁজে বের করেন এবং "অস্থায়ী আমদানি সারচার্জ" ঘোষণা করেন। এই নতুন নিয়ম ২৪ ফেব্রুয়ারী থেকে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী ১৫০ দিন ধরে কার্যকর থাকবে।
এই আইনি লড়াইয়ের মধ্যে, ভারতীয় রপ্তানিকারকদের জন্যও কিছুটা স্বস্তি রয়েছে। আগে ভারতীয় পণ্যের উপর ১৮% শুল্ক আরোপের কথা বলা হলেও, রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ঘোষিত নতুন "গ্লোবাল লেভি"-এর অধীনে তা কমিয়ে ১০% করা হয়েছে। এটি ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জন্য একটি জটিল পরিস্থিতি তৈরি করে। যদিও করের হার কমানো হয়েছে, ট্রাম্পের "তারা (ভারত) শুল্ক দেবে, এবং আমরা দেব না" এই বক্তব্য ভারতের বাণিজ্য কৌশলকে চ্যালেঞ্জ করে। সরকার এখন পরীক্ষা করছে যে এই নতুন ১০% বোঝা ভারতীয় কোম্পানিগুলির আয়ের উপর কীভাবে প্রভাব ফেলবে।
এখন প্রশ্ন উঠছে: সাত সমুদ্র পেরিয়ে চলমান এই আইনি ও কূটনৈতিক লড়াই আপনার এবং আমাদের জীবনে কীভাবে প্রভাব ফেলবে? প্রকৃতপক্ষে, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলি শুল্ক পরিবর্তন করে, তখন এটি সরাসরি ভারতের আইটি খাত, টেক্সটাইল শিল্প এবং ওষুধ কোম্পানিগুলির লাভের উপর প্রভাব ফেলে। যদি কর কমানো হয়, তাহলে ভারতীয় কোম্পানিগুলির পণ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আরও বেশি বিক্রি হবে, যার ফলে ডলার আসবে এবং অর্থনীতি শক্তিশালী হবে। তবে, যদি এই অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকে, তাহলে এর প্রভাব শেয়ার বাজার থেকে শুরু করে নতুন চাকরির সুযোগ পর্যন্ত সর্বত্র অনুভূত হতে পারে।

No comments:
Post a Comment