প্রেসকার্ড নিউজ বিনোদন ডেস্ক, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:০০:০১ : ডিম আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু ডিম যদি নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে এই পুষ্টিকর খাবারই স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। অনেক সময় বাইরে থেকে ডিম ভালো দেখালেও ভিতরে তা নষ্ট থাকতে পারে, যা ফুড পয়জনিং বা পেটের সমস্যার কারণ হতে পারে। তাই ডিমের সতেজতা যাচাই করা খুবই জরুরি। পুষ্টিবিদ জানিয়েছেন, কিছু সহজ ঘরোয়া উপায়ে ডিম ভালো না খারাপ তা বোঝা যায়, পাশাপাশি সঠিকভাবে সংরক্ষণ করলে ডিমের গুণগত মানও বজায় থাকে।
ডিম ভালো না খারাপ বুঝবেন কীভাবে?
১. জলের টেস্ট
একটি গ্লাসে জল নিয়ে তাতে ডিম দিন
ডিম একেবারে নিচে গিয়ে শুয়ে থাকলে → একেবারে টাটকা (০–১ সপ্তাহ)
নিচে গেলেও দাঁড়িয়ে থাকলে → কিছুটা পুরোনো, তবে খাওয়া যেতে পারে (২–৩ সপ্তাহ)
ডিম ভেসে উঠলে → নষ্ট, সঙ্গে সঙ্গে ফেলে দিন
মনে রাখবেন, এই টেস্ট শুধু ডিমের বয়স বোঝায়, নিরাপত্তা নয়।
২. ভেঙে দেখার পদ্ধতি
টাটকা ডিমের কুসুম গোল ও উঁচু থাকে
সাদা অংশ ঘন ও আঠালো হয়
পুরোনো ডিমে কুসুম ছড়িয়ে পড়ে এবং সাদা অংশ জলের মতো হয়ে যায়
৩. গন্ধ পরীক্ষা (সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ)
ডিমে পচা বা সালফারের মতো দুর্গন্ধ থাকলে একদম খাবেন না
রান্না করলেও নষ্ট ডিম নিরাপদ হয় না
৪. ঝাঁকিয়ে দেখা
ডিম ঝাঁকালে ভেতর থেকে ছপছপ শব্দ এলে বুঝবেন ডিমটি টাটকা নয়
ডিম কীভাবে সঠিকভাবে সংরক্ষণ করবেন?
ডিমের খোসায় ছোট ছোট ছিদ্র থাকে, যার মাধ্যমে সহজেই গন্ধ ঢুকে যেতে পারে। তাই সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা জরুরি।
ডিম সবসময় ফ্রিজে রাখুন
ফ্রিজের দরজায় নয়, ভেতরের শেলফে রাখুন
মূল কার্টনেই সংরক্ষণ করুন
ডিমের সরু দিক নিচে ও মোটা দিক উপরে রাখুন
সংরক্ষণের আগে ধুবেন না, ব্যবহার করার আগে ধুয়ে নিন
ডিম এসব জিনিসের পাশে রাখবেন না
ডিম সহজেই গন্ধ শোষণ করে, তাই এগুলোর থেকে দূরে রাখুন—
পেঁয়াজ, রসুন
মাছ ও সি-ফুড
তীব্র মসলা
খোলা অবস্থায় রাখা বেঁচে যাওয়া খাবার
ফারমেন্টেড খাবার
তীব্র গন্ধযুক্ত যেকোনো জিনিস
কলা ও আপেল
গুরুত্বপূর্ণ কথা
ডিম তখনই উপকারী, যখন তা টাটকা এবং সঠিকভাবে সংরক্ষিত হয়। সামান্য সতর্কতা আপনাকে ফুড পয়জনিং থেকে বাঁচাতে পারে এবং ডিমের পুষ্টিগুণ বজায় রাখতে সাহায্য করে।
প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াও সবসময় ভালো।

No comments:
Post a Comment